প্রথমবারের মতো এই আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে আবদ্ধ হলো
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের লক্ষ্য নিয়ে একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশের পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ (BGMEA) এবং জার্মানির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড (GIZ) প্রথমবারের মতো এই আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে আবদ্ধ হলো।
রবিবার (১০ মে, ২০২৬) উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। মে ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৮ পর্যন্ত মেয়াদী এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের পোশাক খাতে টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি দক্ষতা এবং সার্কুলারিটি নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষ নিবিড়ভাবে কাজ করবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং জিআইজেড-এর পক্ষে গুনডলফ ক্লেন (Gundolf Klaehn) নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন: বিজিএমইএ সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী এবং অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ।
জিআইজেড: STILE II প্রকল্পের প্রধান মাইকেল ক্লোডে ও মো. তানভীর মাসুদ।
এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প (যেমন: STILE II, SCAIP, EE4DEV, CIRCLE প্রভৃতি) বাস্তবায়িত হবে। এর প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো:
ইইউ বাজারের শর্ত পূরণ: ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন শর্তাবলী যেমন—সাপ্লাই চেইন ডিউ ডিলিজেন্স, ট্রেসেবিলিটি এবং ডিকার্বোনাইজেশন বিষয়ে কারখানাগুলোকে প্রস্তুত করা।
পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা: কারখানায় উন্নত রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রেখে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ।
জ্বালানি দক্ষতা: নিয়মিত এনার্জি অডিট পরিচালনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ।
শ্রমিক কল্যাণ ও ডিজিটাল ডাটাবেজ: শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি এবং আধুনিক দক্ষতা উন্নয়ন।
ঝুট ব্যবস্থাপনা ও সার্কুলারিটি: পোশাক খাতের ঝুট বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস তৈরি।
নারী ক্ষমতায়ন: প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘শক্তি কন্যা’ নেটওয়ার্ককে আরও গতিশীল করা।
এই সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান প্রধান ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রকল্পের কার্যকর তদারকির জন্য জিআইজেড সরাসরি বিজিএমইএ-এর ‘সার্কুলারিটি, ডিকার্বোনাইজেশন অ্যান্ড এনার্জি এফিসিয়েন্সি’ এবং ‘ডেটা অ্যান্ড রেসপন্সিবল বিজনেস হেল্পডেস্ক’ সাব-গ্রুপের সাথে সমন্বয় করবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন:
“এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে একটি দায়িত্বশীল এবং পরিবেশবান্ধব বৈশ্বিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
জিআইজেড-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পোশাক খাতের টেকসই রূপান্তরে দীর্ঘমেয়াদী কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।