এআইকে বন্ধু ও পড়াশোনার সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করছে জেন জি: ক্যাসপারস্কি
[০৮ অক্টোবর ২০২৬] - জেন জি প্রজন্মের দৈনন্দিন জীবনে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এশিয়া-প্যাসিফিক (এপিএসি) অঞ্চলের জেন জিদের অর্ধেক (৫০ শতাংশ) প্রায় প্রতিদিন এআই ব্যবহার করছে। অন্যান্য বয়সভিত্তিক গোষ্ঠীর তুলনায় এ হার সবচেয়ে বেশি। তথ্য খোঁজার জন্য ৫৭ শতাংশ, পড়াশোনার কাজে ৫৪ শতাংশ এবং নতুন ধারণা তৈরিতে ৫০ শতাংশ জেন জি এআই ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি।
এআই-এর ব্যবহার এখন শুধু পড়াশোনা বা নির্দিষ্ট কাজের মধ্যেই সীমিত নেই। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও এআইয়ের সঙ্গে কথা বলছেন অনেকে। এপিএসি অঞ্চলের ৩২ শতাংশ জেন জি জানিয়েছেন, তারা এআইকে বন্ধুর মতো ব্যবহার করেন। ইন্দোনেশিয়ায় এ হার ৩৯ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৩৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৩৪ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৩৩ শতাংশ এবং ভারতে ৩২ শতাংশ। এ ছাড়া ৩৪ শতাংশ জেন জি এমন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন, যা তারা অন্য মানুষের সঙ্গে শেয়ার করতে চান না। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কাজের সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি কথোপকথন, ব্যক্তিগত পরামর্শ ও সঙ্গ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে।
তবে এআই বেশি ব্যবহার করলেই যে নিরাপদভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নয়। এপিএসি অঞ্চলের ৪৫ শতাংশ জেন জি এআই ব্যবহারের সময় নিয়মিত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেন। অন্যদিকে ৫১ শতাংশ তা করেন শুধু মাঝে মাঝে। তাই এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই করা এবং পাসওয়ার্ড, আর্থিক তথ্য, পরিচয়পত্র, ব্যক্তিগত কথোপকথন ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যের মতো সংবেদনশীল তথ্য এআইয়ের সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পড়াশোনা, যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদের এআই প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করে, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ফিশিং, ম্যালওয়্যার ও ভুয়া ওয়েবসাইট থেকে অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য ক্যাসপারস্কি প্রিমিয়াম-এর মতো নিরাপত্তা সমাধান ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি ক্যাসপারস্কি অ্যাকাডেমি-এর সাইবারহাইজিন (Cyberhygiene) কোর্স এবং ইন্টার্যাকটিভ কেস ৪০৪ (Case 404) গেম ব্যবহারকারীদের ব্যবহারিক সাইবার নিরাপত্তা দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে।
ক্যাসপারস্কি এআই টেকনলজি রিসার্স সেন্টার-এর গ্রুপ ম্যানেজার ভ্লাদিস্লাভ তুশকানোভ বলেন, “এআই প্রযুক্তির নতুন প্রবণতা সম্পর্কে জেন জি অন্য প্রজন্মের তুলনায় বেশি আগ্রহী ও পরিচিত। পড়াশোনা, যোগাযোগ ও দৈনন্দিন জীবনে তারা নানা কাজে এআই ব্যবহার করছে। তরুণদের একটি অংশ এখন এআইকে বন্ধুর মতো দেখছে। এটি ব্যবহারকারী ও প্রযুক্তির সম্পর্ক কত দ্রুত বদলাচ্ছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।”
তিনি আরও বলেন, তবে এআইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার অনুভূতি থেকে এটিকে পুরোপুরি ব্যক্তিগত বা নির্ভরযোগ্য মনে করা ঠিক নয়। এআই ব্যবহারের সময় তথ্য যাচাই করা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং এআইয়ের দেওয়া তথ্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।”
ক্যাসপারস্কির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাড্রিয়ান হিয়া বলেন, “তরুণদের দৈনন্দিন জীবনে এআই কতটা স্বাভাবিকভাবে জায়গা করে নিয়েছে, জরিপে সেটিই সবচেয়ে বেশি নজরে পড়েছে। এপিএসি অঞ্চলের প্রতি তিনজন জেন জেডের একজন যখন এআইকে বন্ধুর মতো দেখছেন, তখন এটি শুধু একটি প্রযুক্তির টুল নয়। এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক যত ব্যক্তিগত হচ্ছে, ততই কী বিশ্বাস করা যাবে, কী শেয়ার করা যাবে এবং কোথায় সীমা টানতে হবে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।”