Favicon

বিনিয়োগ বাড়াতে আস্থা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের আহ্বান অ্যামচ্যামের

প্রতিবেদক: ST Report জুন ১৫, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
বিনিয়োগ বাড়াতে আস্থা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের আহ্বান অ্যামচ্যামের
বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) সোমবার রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় “জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির জন্য আস্থা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা গঠন” শীর্ষক বাজেট-পরবর্তী মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর

বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) সোমবার রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় “জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির জন্য আস্থা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা গঠন” শীর্ষক বাজেট-পরবর্তী মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সম্পর্কে সংগঠনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি পুনর্ব্যবহৃত তুলার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের জন্য শূন্য শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স সুবিধা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর অব্যাহতি ও রিবেটের মতো উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তবে তিনি বলেন, ব্যবসায়ী মহলের কিছু উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কর কাঠামোর আরও যৌক্তিক সংস্কার প্রয়োজন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি তৈরির একটি বাস্তবসম্মত প্রয়াস। ব্যবসার ব্যয় কমানো, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের মাধ্যমে বাজেটটি বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

তবে বাজেট বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতের দুর্বলতা মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। নীতিগত লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পরে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন অ্যামচ্যামের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী। আলোচনা সঞ্চালনা করেন অ্যামচ্যামের সহ-সভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমেদ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দুর্বল রাজস্ব আহরণ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী বলেও তারা মন্তব্য করেন।

তারা সতর্ক করে বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণগ্রহণ বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হতে পারে। এতে সুদের হার বৃদ্ধি, বিনিয়োগ হ্রাস, ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনায় বক্তারা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তবে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং লক্ষ্যভিত্তিক বণ্টন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ এক বিবৃতিতে জানায়, টেকসই উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিল্পের আধুনিকায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে উৎসাহিত করতে বাজেটে বেশ কয়েকটি ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার অপরিহার্য।

অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ রেজা-উর-রহমান মাহমুদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। এতে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন সরকারি প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং অ্যামচ্যামের সদস্যরা অংশ নেন।