Favicon

দেশে প্রথমবারের মতো কম্পিটেন্সি-বেজড চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কারিকুলাম প্রণয়ন করেছে এনএসডিএ

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২৫, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
দেশে প্রথমবারের মতো কম্পিটেন্সি-বেজড  চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কারিকুলাম প্রণয়ন করেছে এনএসডিএ
Photo: Courtesy
দেশে প্রথমবারের মতো কম্পিটেন্সি-বেজড চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কারিকুলাম প্রণয়ন করেছে এনএসডিএ

ঢাকা, বাংলাদেশ; ২৫ আগস্ট, ২০২৬: চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শিল্পখাতে চীনা ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে। পরিবর্তনশীল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী, মানসম্মত ও কর্মসংস্থানমুখী করতে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) দেশে প্রথমবারের মতো দেশি-বিদেশি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ’-এর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) ও কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট (সিএডি) প্রণয়ন করেছে।

 

প্রণীত কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলামের প্রাসঙ্গিকতা ও শ্রমবাজার উপযোগিতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আজ (২৫ আগস্ট) এনএসডিএ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ভ্যালিডেশন কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জনাব মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন। এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএফএ) সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নু এবং ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল (আইএসসি)-এর চেয়ারম্যান জনাব মির্জা নুরুল গনি শোভন।

 

চীনা ভাষাকে শুধু ভাষাগত দক্ষতা হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান ও পেশাগত দক্ষতার একটি স্বতন্ত্র অকুপেশন হিসেবে কাঠামোবদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে চীনা ভাষা শেখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতার একটি মানসম্মত কাঠামো তৈরি হবে।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপদেষ্টা জনাব মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, রোবটিক্স, এআই ও আধুনিক প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। অতীতে উন্নয়নের নামে অবকাঠামো নির্মাণ হলেও তা কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি। তাই দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সুযোগ এবং চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, ভাষাগত বাধা দূর করতে ঢাকা থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য অনলাইন, হাইব্রিড ও প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মে চীনা ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। চীনা ভাষার দক্ষতা কাঠামো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের চীনে উচ্চশিক্ষার পথও সহজ করতে পারে। তিনি বলেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; একটি দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, মূল্যবোধ ও সভ্যতাকে বোঝারও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, বই ও ডিজিটাল কনটেন্টসহ যৌথ সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। ঐতিহাসিক চীন-বাংলা বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের গল্পকে আধুনিক সৃজনশীল মাধ্যমে তুলে ধরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা সম্ভব।

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো শিক্ষা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থান ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে চীনা ভাষায় দক্ষতা বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চাইনিজ ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ ও কর্মজীবীরা চীনা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুফল কাজে লাগানোর সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্প, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সহযোগিতা ক্রমাগত বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চীনা ভাষায় দক্ষ জনবলের চাহিদাও বাড়ছে। তাই চীনা ভাষাকে শুধু ভাষাগত দক্ষতা নয়, বরং কর্মসংস্থান, পেশাগত যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর কম্পিটেন্সি-বেজড কারিকুলাম প্রণয়নের মাধ্যমে এনএসডিএ শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা তৈরিতে কাজ করছে।

 

তিনি বলেন, দেশী-বিদেশী চাইনিজ ভাষার বিশেষজ্ঞ, চীনা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি মানসম্মত ও কর্মসংস্থানমুখী কম্পিটেন্সি-বেজড কারিকুলাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠান, চীনা ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে চীনা ভাষা প্রশিক্ষণকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য চীনা কোম্পানি, বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

ভ্যালিডেশন কর্মশালায় চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমবাজারের চাহিদা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ১৬-১৯ আগস্ট চার দিনব্যাপী ডেভেলপমেন্ট কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে ভ্যালিডেশন কর্মশালার মাধ্যমে কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

 

এ উদ্যোগের ফলে এনএসডিএ নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স চালুর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা মূল্যায়ন ও জাতীয়ভাবে স্বীকৃত সনদ প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

 

উল্লেখ্য, কর্মশালায় যৌথ সনদ প্রদানের (জয়েন্ট সার্টিফিকেশন) লক্ষ্যে চীনের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর লেভেল ২ ও ৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অকুপেশনের দক্ষতা কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট-এইচএসকে লেভেল ১ ও ২-এর সমমানের হবে।

 

সমাপনী অনুষ্ঠানে এনএসডিএ-এর সদস্য, পরিচালক, সংশ্লিষ্ট পরামর্শক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।