Favicon

চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রতিবেদক: ST Reporter সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত আজ রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত ‘৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস
চিকিৎসক-রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী উভয়ের নিরাপত্তা নিয়েই সরকার অত্যন্ত সচেতন ও সক্রিয় এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ আয়োজিত ‘৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৫ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের ঐতিহাসিক ও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন,  নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করার ওপরও জোর দিতে হবে।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত তরুণ চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক হিসেবে আপনারা গুরুদায়িত্ব নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বেন। একদিকে চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনই সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও সুচিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব। আমরা এই দুই নিরাপত্তা নিয়েই অত্যন্ত চিন্তিত ও সচেতন।

তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থার গুণগত মান বাড়ানো, হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশের উন্নতি ও রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রশমিত হবে।

ড. মুহিত আরও বলেন, ‘মানুষের আক্ষেপের মূল কারণগুলো সমাধান করলেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দূর করা সম্ভব হবে।’

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। ডাক্তারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এর একটিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভগ্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পেয়েছি, যেখানে দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য ও অনিয়ম চেপে বসেছিল। কিন্তু বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়েই আমাদের এই ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন করতে হবে।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সরকারের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। শুধু চিকিৎসা জানলেই চলবে না, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডারিং ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও শুরু থেকেই সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

এ সময় মাঠপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।

ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি প্রযুক্তিবান্ধব ও গবেষণামুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সরকার আধুনিক ‘ডিজিটাল হেলথ’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং আগামী কয়েক দশক জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নবীন চিকিৎসকদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন— স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।