নিরাপদ সড়কে চালকদের চোখের সুস্থতায় গুরুত্ব দিচ্ছে ভিশনস্প্রিং: ৩০ হাজার চালক ও পরিবহনশ্রমিকের চোখ পরীক্ষা
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে উন্নত অবকাঠামো, কার্যকর আইন প্রয়োগ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চালকদের সুস্বাস্থ্য ও দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখাও জরুরি।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে ভিশনস্প্রিংয়ের ‘সি টু বি সেফ’ উদ্যোগের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন চালক যখন স্টিয়ারিং হাতে বসেন, তখন তাঁর ওপর শত শত যাত্রীর জীবন নির্ভর করে। তাই একজন চালকের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখা মানে শুধু একজন মানুষকে সাহায্য করা নয়, অসংখ্য যাত্রীর জীবন সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া।’
ভিশনস্প্রিংয়ের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নিজেও এ কর্মসূচির আওতায় চোখ পরীক্ষা করিয়েছেন এবং চশমা পেয়েছেন। চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়নের সময় দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সরকার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবীন বলেন, বাংলাদেশে দুই কোটির বেশি মানুষ প্রয়োজনীয় চশমার অভাবে দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পেশাদার চালক রয়েছেন। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চশমা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে ভিশনস্প্রিং। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লাখ মানুষের কাছে রিডিং গ্লাস পৌঁছে দিয়েছে। মানুষের দৃষ্টিশক্তির উন্নতির পাশাপাশি চালকদের চোখের সেবা নিশ্চিত করে দেশের সড়কগুলোকে আরও নিরাপদ করাও তাদের লক্ষ্য।
ভিশনস্প্রিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ‘সি টু বি সেফ’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৩০ হাজারের বেশি চালক ও পরিবহনশ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের দৃষ্টিশক্তি সংশোধনের প্রয়োজন ছিল, এমন ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে চশমা দেওয়া হয়েছে।
দুই বছর মেয়াদি এ কর্মসূচির লক্ষ্য ৫০ হাজার বাস ও ট্রাকচালকের চোখ পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ৩০ হাজার চশমা বিতরণ করা। চালকদের চোখের সমস্যাজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিংয়ের কার্যক্রম ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। পরে ‘প্রমোটিং রোড সেফটি থ্রু বেটার ভিশন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় পরিবহন খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নেন ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবীন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান। আলোচনা সঞ্চালনা করেন ভিশনস্প্রিংয়ের প্রকল্প পরিচালক শাহরোজ জলিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। এ সময় সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে চালকদের চোখের স্বাস্থ্যকে আরও গুরুত্ব দেওয়া এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়।