Favicon

পচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব না হলে আমরা সার্বভৌমত্ব হারাতাম : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
পচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব না হলে আমরা সার্বভৌমত্ব হারাতাম : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
পচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব না হলে আমরা সার্বভৌমত্ব হারাতাম : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব না হলে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হারাতাম বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি। আজ শনিবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর প্রথম পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

 

তিনি বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধানে সংকটের চেয়ে সুযোগ বেশি ছিল। কিন্তু মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষমতালিপ্সার কারণে সেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান যেমন বাকশাল গঠন করেছিলেন, তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাও বাবার পথ ধরে বাকশাল-২ গঠন করেছিলেন।’

 

জুলাই সনদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না কিন্তু রাজনৈতিক সমোঝতা আইনি ভিত্তি থেকে কম কিছু নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা শুধু সংবিধান সংস্কারই নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণের পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করাটা আরও বেশি জরুরি।’

 

জুলাই জাদুঘরের উদ্যোগে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর প্রথম পর্বে ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক আলোচনায় আরও অংশ নেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

 

আসিফ নজরুল বলেন, ‘বেশ কিছু কালাকানুন বাদ দেয়ার মাধ্যমে বাহাত্তরের সংবিধানটি খুবই চমৎকার একটি সংবিধান হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় শেখ মুজিবুর রহমানের আমলেই সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্টের মাধ্যমে সেই কালাকানুনগুলো আবার যুক্ত করা হয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘বাকশাল কোনো একদলীয় শাসন নয়; বরং এক ব্যক্তির শাসনের জন্যই বাকশাল করা হয়েছিল।’

 

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান। ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পুঁজির উৎপাদক ছিল না; বরং আওয়ামী লীগ ছিল পুঁজির লুণ্ঠনকারী। তৃণমূল পর্যায়ের এই আর্থরাজনৈতিক বাস্তবতা একসময় রাষ্ট্র নিজেও চর্চা শুরু করে, যার পরিণতি বাকশাল।’

 

আলোচক আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সংবিধান কখনোই স্বৈরতন্ত্র তৈরি করে না; বরং ক্ষমতাসীন ব্যক্তির অভিপ্রায়ই স্বৈরতন্ত্র তৈরি করে দেয়। তা না হলে বাহাত্তরের সংবিধানের পরও শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল গঠনের প্রয়োজন হতো না।

 

সভাপ্রধানের বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্‌সান মাহমুদ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক চর্চায় জুলাই জাদুঘর সামনে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে থাকবে।’

 

গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর প্রথম পর্বে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ। সেমিনার সিরিজটির পরের পর্বগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।