বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে সন্তোষের হার বেড়ে ৮৩ শতাংশে পৌঁছেছে
বাংলাদেশে কর্মীদের সন্তুষ্টি এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালে কর্মক্ষেত্রে সন্তোষের হার বেড়ে ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৭৮ শতাংশ।
মেটলাইফ-এর একটি নতুন গবেষণায় কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ইতিবাচক ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারকারী ৯১ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন এর ফলে তাদের কাজের অভিজ্ঞতায় উন্নতি হয়েছে।
এতে প্রতীয়মান হয় প্রযুক্তি, কর্মীদের কল্যাণ এবং কর্মক্ষেত্রে উন্নত সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে একটি অধিকতর সন্তুষ্ট, সম্পৃক্ত এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
৮৫ শতাংশ নিয়োগকর্তারা মনে করেন কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি গঠনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ।
আজ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ফলাফলগুলো মেটলাইফ বাংলাদেশ পরিচালিত ‘এমপ্লয়ি বেনিফিটস ট্রেন্ডস স্টাডি’ (ইবিটিএস) এর দ্বিতীয় সংস্করণের অংশ। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে কর্মীদের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে।
গবেষণায় কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ৫৫ শতাংশ কর্মী ইতোমধ্যে তাদের দৈনন্দিন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছেন এবং এই ব্যবহারকারীদের ৯১ শতাংশ জানিয়েছেন এটি তাদের কাজের অভিজ্ঞতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বর্তমানে ৫৮ শতাংশ নিয়োগকর্তা কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে উৎসাহিত করছেন বা এর সুযোগ করে দিচ্ছেন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে কর্মীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করছেন।
এই ফলাফলগুলো থেকে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রস্তুতি, কর্মীদের কল্যাণ, আর্থিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি—এই বিষয়গুলো একে অপরের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়ছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো যখন প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কর্মীদের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে, তখন সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মীদের জন্য অর্থবহ সহায়তা—কর্মীদের সম্পৃক্ততা, আনুগত্য ও ব্যবসায়িক সাফল্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে আর্থিক চাপের কারণে কর্মক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা কর্মীর হার ২০২৫ সালের ৫৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত আর্থিক সংকট বা খরচের ক্ষেত্রে ৭২ শতাংশ কর্মী তাদের নিয়োগকর্তার কাছ থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করেন।
ব্যক্তিগত চাহিদানুযায়ী সুযোগ-সুবিধার (পার্সোনালাইজড বেনিফিটস) প্রতি আগ্রহ ৬৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৬ শতাংশে পৌঁছেছে। বিমা এবং সুস্থতা বিষয়ক সুযোগ-সুবিধাগুলো কর্মীদের আনুগত্যের ওপর প্রভাব ফেলে চলেছে। ৭৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে, এসব সুবিধা তাদের নিয়োগকর্তার প্রতি আরও অনুগত করে তোলে (২০২৫ সালে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ)।
অবসর গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সি কর্মীদের মধ্যে যাদের কোনো অবসর পরিকল্পনা নেই, তাদের হার ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮১ শতাংশ হয়েছে।
এই গবেষণায় আরএমজি (পোশাক শিল্প), ব্যাংকিং, এফএমসিজি (দ্রুত ভোগ্যপণ্য), টেলিকম, খুচরা ব্যবসা, উৎপাদন শিল্প, এনজিও এবং প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পের ৫৮৩ জন কর্মী ও ১২৬ জন নিয়োগকর্তা—সর্বমোট ৭০৯ জন অংশগ্রহণকারীর মতামত নেওয়া হয়েছে। গবেষণাটি ২০২৬ সালে পরিচালিত হয়।
গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলা আহমদ বলেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র মানেই কেবল নতুন প্রযুক্তির সংযোজন নয় বরং কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তনের সাথে সাথে কর্মীরা যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই গবেষণাটি বাংলাদেশে নিয়োগকর্তা ও কর্মী—উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে নিয়ে এসেছে, যা তাদের পরিবর্তনশীল চাহিদা, প্রত্যাশা এবং নতুন সুযোগগুলো চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই অন্তর্দৃষ্টিগুলো নিয়োগকর্তাদের আরও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে এবং একই সঙ্গে কর্মীদের তাদের নিজস্ব চাহিদাগুলো ভালোভাবে বুঝতে ও তা প্রকাশ করতে সক্ষম করে তুলবে।’
আলা আহমদ বলেন, ‘প্রযুক্তি, আর্থিক নিরাপত্তা, সুস্থতা এবং প্রাসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাকে একত্রিত করার মাধ্যমে আমরা আরও বেশি কর্মোদ্যোগী, প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত একটি কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারি।’