প্রশাসকের অনুমতি ছাড়াই বেসিসের বর্তমান কমিটির সংবাদ সম্মেলন
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর প্রশাসকের অনুমতি না নিয়েই সংগঠনটির বর্তমান সহায়ক কমিটি একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের এক সদস্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বেসিসের অবস্থান তুলে ধরতে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসিস কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন বেসিসের প্রশাসক খাদিজা নাজনিন। সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এই মাত্র আপনার কাছ থেকে জানলাম।’
প্রশাসক আরও বলেন, তাঁর সহায়ক কমিটির সদস্যরা যদি তাঁর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করেন, তাহলে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচয় ও তথ্যের ব্যবহার, অর্ডার ও রিভিউ ব্যবস্থাপনা, কর্মী ও ফ্রিল্যান্সারদের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কেটপ্লেসের নীতিমালা লঙ্ঘনসহ বিটোপিয়া গ্রুপ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে বেসিসের বর্তমান কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তবে প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসকের দায়িত্ব ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করেই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি আয়োজন করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেসিসের সহায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. জুয়েল বলেন, প্রশাসক প্রযুক্তিগত বিষয়ে আসতে চান না। এ ছাড়া তিনি এই শিল্পের সদস্য নন বলেও দাবি করেন।
তবে একই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রশাসক মহোদয়া এ বিষয়ে অবগত। তিনি সবকিছু জানেন। আজ শনিবার বলে তিনি আসেননি। তাঁর পরিবর্তে আমরা কথা বলছি।’
একই বিষয়ে প্রশাসকের বক্তব্যের সঙ্গে এ বক্তব্যের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বেসিসের আরেক সহায়ক কমিটির সদস্য এবং এটোভা টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার ফেরদৌস আলমের আচরণ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।
একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি ওই সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আগে সাংবাদিকতা শিখবেন, তারপর প্রশ্ন করবেন।’
সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হওয়ার সময়ও একই সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উপস্থিত অন্য সদস্যরা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে তিনি বেসিস কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। তবে ফেরদৌস আলমের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিটোপিয়া ও বিডি কলিংয়ের প্রধান মো. মনির হোসেন অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘শনিবার দুপুরে আমাকে বেসিসের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানানো হয়। বরং আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হচ্ছি। তারা আমার ফোনও ধরছেন না।’
তিনি আরও বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ এবং বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বেসিসের প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে বর্তমান সহায়ক কমিটির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।