তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, বহুমুখী অর্থনীতি ও এআইয়ের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন এবং দেশের নীতি ও উন্নয়নে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের মাটির নিচে পর্যাপ্ত নিজস্ব জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও বিগত দেড় দশকের লুটেরা অর্থনীতির কারণে একটি আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘এই ভুল ও লুটেরা নীতির কারণেই দেশ এখন বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে।’
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর লা ভিটা ব্যাঙ্কোয়েট হলে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ‘ইনকিলাব’-এর ৪০তম বার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীনের সভাপতিত্বে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট উত্তরণের উপায় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই জটিল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতকে সচল করার জন্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এই মুহূর্তে চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের পুরো অর্থায়নই রাশিয়ার ঋণ থেকে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংগত কারণেই জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে রাশিয়া আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে বাংলাদেশকে বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে পথ চলতে হয়। আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারের ওপর নির্ভরশীল, আবার রেমিট্যান্স আয়ের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, আমাদের আমদানির প্রধান উৎস ভারত ও চীন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বড় সহযোগী জাপান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে দেশের অর্থনীতিকে এমন বহু অংশীদারদের সঙ্গে পথ চলতে হয়, সেই দেশের রাজনীতিতেও অবশ্যই বহুমুখী চিন্তার সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।’
দৈনিক ইনকিলাব এই জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির রূপান্তরকে ভবিষ্যতে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী এখন প্রযুক্তির এক নতুন অংশীদার হাজির হয়েছে, যা মানব সভ্যতা এর আগে কখনো দেখেনি। বর্তমানে বিশ্বনেতারা যখনই দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক বৈঠকে বসেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ সেখানে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, ইতিহাসের বেশিরভাগ ভালো-মন্দ এতদিন মানুষ একাই করেছে, কিন্তু ভবিষ্যতে মানুষের পাশাপাশি ভালো ও মন্দের যৌথ দায়িত্ব পালন করবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের যুগে তথ্য যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও অনেক বেড়ে গেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ, সুষ্ঠু ও দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পরিচ্ছন্ন ম্যান্ডেট নিয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং সাম্য ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার এই নতুন অভিযাত্রায় দৈনিক ইনকিলাব অতীতে যেমন ছিল, ভবিষ্যতেও তেমনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে মন্ত্রী বিশ্বাস করেন।
বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ধর্মমন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।