Favicon

শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ, দ্রুত বিচার দাবি জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের

প্রতিবেদক: মাজহারুল ইসলাম মে ২১, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ, দ্রুত বিচার দাবি জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের
Photo : Courtesy
শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ, দ্রুত বিচার দাবি জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম (জেএনএনপিএফ)। সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং দেশে শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, বিভিন্ন দৈনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে শিশুটির স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার মা ফ্ল্যাটের বাইরে মেয়ের একটি জুতা দেখতে পান। পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় বারবার নক করেও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর কিছুদিন আগেই নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে ১১ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়। চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা জটিল এবং তার জীবননাশের আশঙ্কাও রয়েছে।

সংগঠনটি উল্লেখ করে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধারাবাহিকভাবে শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা বেড়েই চলেছে। সমাজে শিশুর সুষ্ঠু বিকাশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, আইনের প্রয়োগে দীর্ঘসূত্রতা এবং জবাবদিহিতার অভাবের কারণেই শিশুরা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের তথ্যমতে, চলতি বছরের গত চার মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৭ জন এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩১ জন। এদের অধিকাংশই শিশু।

সংগঠনটি অবিলম্বে এসব স্পর্শকাতর মামলাকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক তদন্ত নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কেবল শাস্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের প্রতিবাদ ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।