যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রত্যয়
ঢাকা, ৪ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী (২৫০th Anniversary of U.S. Independence) উপলক্ষে অ্যামেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে রাজধানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে এক স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে অ্যামচ্যাম কাজ করে যাবে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অ্যামচ্যামের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের (পিএমও) উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সরকার ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে একটি সাংস্কৃতিক পর্বও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মার্কিন সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ, বন্ধুত্ব এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এবং মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, অংশীদার এবং সহযোগীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্যবিষয়ক কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট এবং অ্যামচ্যামের কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, উন্নয়ন অংশীদার এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আগামী দিনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।