Favicon

টেকসই স্থাপত্য নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করল ব্রিটিশ কাউন্সিল

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
টেকসই স্থাপত্য নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করল ব্রিটিশ কাউন্সিল
Photo: Collected
টেকসই স্থাপত্য নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করল ব্রিটিশ কাউন্সিল

বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল স্থাপত্যচর্চা নিয়ে ‘সাসটেইনেবল আর্কিটেকচার প্র্যাকটিস’ শীর্ষক গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টস।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ, নির্মাণ-খাতসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ আগ্রহী মানুষ অংশ নেন।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের অর্থায়নে পরিচালিত এ গবেষণার নেতৃত্ব দেয় বেঙ্গল ইনস্টিটিউট। গবেষণায় বাংলাদেশের সরকারি, বেসরকারি ও তৃণমূল পর্যায়ে গড়ে ওঠা টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল স্থাপত্যচর্চার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এ খাতের বিকাশ ও যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে নীতিগত সুপারিশও উপস্থাপন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কাজী খালিদ আশরাফ। এ সময় প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে গবেষণার বিভিন্ন দিক ও কেস স্টাডি তুলে ধরেন ড. আতিকুর রহমান, রিপিন কালরা এবং স্থপতি খোন্দকার হাসিবুল কবির।

কাজী খালিদ আশরাফ বলেন, “টেকসই উন্নয়ন এখন চিন্তা ও চর্চার ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারা তৈরি করেছে। মানুষ কীভাবে পৃথিবীতে বাস করছে এবং পৃথিবীর সঙ্গে কেমন সম্পর্ক গড়ে তুলছে, তা নিয়েই এই ভাবনা। আজ আমরা যাকে টেকসই স্থাপত্য বলছি, তার চর্চা বহু শতাব্দী ধরেই চলে আসছে। বিভিন্ন ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বাস্তবতায় মানুষ স্থানীয় উপকরণ ও সামাজিক সম্পদ ব্যবহার করে নিজেদের বসতি গড়ে তুলেছে।”

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে টেকসই স্থাপত্যের বৈচিত্র্যময় ও উদ্ভাবনী চর্চাগুলোকে সামনে আনার এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা উদ্যোগে যুক্ত থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। ডিজাইনের মাধ্যমে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রতিফলন এই প্রকাশনা।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সামনে আনার পাশাপাশি এ প্রকাশনা জলবায়ু-সহনশীলতা ও সৃজনশীল অর্থনীতি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায়ও অবদান রাখবে। স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কার্যকর সমাধানগুলো ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে এবং নির্মাণ ও স্থাপত্য খাতে নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গবেষণায় ২০১৫ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের টেকসই স্থাপত্যচর্চা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে একটি স্কোপিং রিপোর্ট, উদ্ভাবনী ও টেকসই নকশার কেস স্টাডি এবং স্থাপত্যে টেকসই উন্নয়ন ও সহনশীলতা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশভিত্তিক নীতিপ্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে প্রকাশনা অনুষ্ঠান ছাড়াও ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উন্মুক্ত আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

এই উদ্যোগ সৃজনশীল অর্থনীতি ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অঙ্গীকারের অংশ। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীলতা, উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও নীতিনির্ধারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।