Favicon

দায়বদ্ধ ব্যবসা ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়: সাসটেইনাবিলিটি সামিট

প্রতিবেদক: ST Report জুলাই ১৯, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
দায়বদ্ধ ব্যবসা ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়: সাসটেইনাবিলিটি সামিট
Photo: Courtesy
দায়বদ্ধ ব্যবসা ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়: সাসটেইনাবিলিটি সামিট

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চাকে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬

আকিজ বশির গ্রুপের পরিবেশনায়, এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর সঞ্চালনায় এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও বিজিএমইএ-এর সহযোগিতায় শনিবার রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় সামিটের চতুর্থ আসর।

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ব্যবসায়িক নেতা, নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তারা টেকসই ও দায়িত্বশীল ব্যবসা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সামিটে তিনটি কী-নোট সেশন, দুটি প্যানেল আলোচনা, তিনটি ইনসাইট সেশন, দুটি কেস স্টাডি, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ এবং একটি পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাব এবং কমপ্লায়েন্স থেকে দায়িত্বশীল আচরণে উত্তরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, "টেকসইতা এখন আর বছরে একবার আলোচনার বিষয় নয়; এটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মূল চর্চার অংশ হতে হবে। বাংলাদেশ যখন ২০৩০ সালের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা এবং এলডিসি উত্তরণের পথে এগোচ্ছে, তখন দায়িত্বশীল ব্যবসা আর বিকল্প নয়, বরং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ভিত্তি।"

প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান "সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স: মোবিলাইজিং ক্যাপিটাল ফর বাংলাদেশ'স গ্রিন ট্রানজিশন" শীর্ষক বক্তব্যে সবুজ অর্থায়ন ও পুঁজিবাজারের মাধ্যমে নিম্ন-কার্বন অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশ্বখ্যাত বিপণন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ফিলিপ কটলার এবং কানাডার রেসইন্ট সাসটেইনেবিলিটি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. খালিদ হাসান উদ্দেশ্যনির্ভর অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টিতে ব্র্যান্ডের ভূমিকা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শ্রামন ঝা বলেন, টেকসইতা এখন ব্যবসার প্রান্তিক বিষয় নয়, বরং প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতার অন্যতম চালিকাশক্তি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবীন, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েফ নাসির, গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, এসিআই লজিস্টিকস (স্বপ্ন)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি বিদ্যা অমৃত খান, ডিবিএল গ্রুপের চিফ সাসটেইনেবিলিটি অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল্লাহ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ব্র্যাকের সিনিয়র ডিরেক্টর কে এ এম মোরশেদ এবং ইউনেসকো চেয়ার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নুরুন্নবীসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা।

আলোচনায় ইএসজি (পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন) রিপোর্টিং, টেকসই সাপ্লাই চেইন, কার্বন মার্কেট, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে শক্তিশালী ইএসজি কাঠামো এবং তৈরি পোশাক খাতে দায়িত্বশীল ব্যবসার নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সমাপনী পলিসি ডায়ালগে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, ভবিষ্যতের ব্যবসায় দায়িত্বশীল আচরণ আর বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য শর্ত।

দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস গালার মাধ্যমে। এতে পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতিতে পরিমাপযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।