অভিবাসন সেবা বাড়াতে ৯ জেলায় কর্মপরিকল্পনা করছে আইওএম
অভিবাসীদের জন্য সেবা বাড়ানো, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে সহায়তা দিতে দেশের ৯টি জেলায় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার মাদারীপুরে প্রথম কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, পটুয়াখালী, খুলনা, রংপুর ও জামালপুরে কর্মশালা হবে।
আইওএমের ‘প্রত্যাশা ২’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর লক্ষ্য, জাতীয় পর্যায়ের অভিবাসন-সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলোকে স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা। পাশাপাশি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন সম্পর্কে তথ্য, সরকারি সেবা, সুরক্ষা এবং দেশে ফেরার পর পুনঃএকত্রীকরণ-সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় জেলার অভিবাসন-সংক্রান্ত সমস্যা, সেবার ঘাটতি এবং সেবা পেতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোন প্রতিষ্ঠান কী দায়িত্ব পালন করবে, কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং তা বাস্তবায়নে কত সময় লাগবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সালাহউদ্দিন বলেন, অভিবাসনের সুফল বাড়াতে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া মানুষকে প্রস্তুত করা, পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশে ফেরার পর পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, জেলা-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা জাতীয় অভিবাসন অগ্রাধিকারের সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতার সংযোগ ঘটাবে। এর মাধ্যমে সারা দেশে আরও সমন্বিত ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সেবা পান, সে জন্য জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। এ উদ্যোগ স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেবাকে আরও সহজলভ্য ও মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের টেকসই পুনঃএকত্রীকরণে সরকার ও স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করছে আইওএম।