Favicon

বিজেএমসির বন্ধ পাটকলগুলোর চাকা ঘুরছে, বাড়ছে কর্মসংস্থান

প্রতিবেদক: ST Reporter অক্টোবর ৭, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
বিজেএমসির বন্ধ পাটকলগুলোর চাকা ঘুরছে, বাড়ছে কর্মসংস্থান
Photo : File
বিজেএমসির ৯ পাটকল চালু, কর্মসংস্থান ৯,৫০০ জনের

বাংলাদেশ জুটমিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলগুলোর চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। লিজ দেওয়া ১৭ টি পাটকলের মধ্যে ৯টির উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

লিজ দেওয়া বাকি ৮টি মিল চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এ উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
এর অংশ হিসেবে বিজেএমসির অধীন আরও তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মিলগুলো হলো-চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড এবং নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল।

বিজেএমসি সূত্রে জানা যায়, লিজ দেওয়া ১৭টি পাটকলের মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়া ৯টি মিল হলো নরসিংদীর বাংলাদেশ জুটমিলস লি, যশোরের রাজাঘাটের জেজেআই লিমিটেড, খুলনার দৌলতপুর জুটমিলস লিমিটেড, যশোরের রাজাঘাটের কার্পেটিং জুটমিলস লিমিটেড, নরসিংদীর ইউএমসি জুটমিলস লিমিটেড, খুলনার আটারার ইস্টার্ন জুটমিলস লিমিটেড, চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের মিলস ফারনিশিংস লিমিটেড, খুলনার খালিশপুরের খালিশপুর জুটমিলস লিমিটেড, রাজশাহীর শ্যামপুরের রাজশাহী জুটমিলস লিমিটেড ও খুলনার খালিশপুর শহরের দি ক্রিসেন্ট জুটমিলস কোং লিমিটেড। 

বিজেএমসি আরও জানায়, বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ পাটকল লিজ দেওয়া হয়েছে। লিজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস. লিজ পেয়েছে জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেড, যশোরের রাজাঘাটের জেজেআই লি. লিজ পেয়েছে আকিজ জুট মিলস লিমিটেড, খুলনার দৌলতপুর জুট মিলস লি. লিজ পেয়েছে উইনিওর্য়াল্ড ফুটওয়ার টেকনোলজি, যশোরের রাজাঘাটের কার্পেটিং জুট মিলস লি. লিজ পেয়েছে রিগ্যাল জুট লিমিটেড, নরসিংদীর ইউএমসি জুট মিলস লি. লিজ পেয়েছে বী সুয়েটারস লিমিটেড, খুলনা আটরার ইস্টার্ন জুট মিলস লিজ পেয়েছে আটলান্টিক জুট লিমিটেড, চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের মিলস ফারনিসিং লি. লিজ পেয়েছে ফোর এমারডস এক্সেসরিজ, খুলনার খালিশপুরের খালিশপুর জুট মিলস লি. লিজ পেয়েছে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, রাজশাহীর শ্যামপুরের রাজশাহী জুট মিলস লি. লিজ পেয়েছে বাঙ্গা বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস লিমিটেড (প্রাণ আরএফএল গ্রুপ), চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের বারবকন্ডের গালফ্রা হাবিব লিমিটেড লিজ পেয়েছে শফি মোটর্স লিমিটেড।

এছাড়া চট্টগ্রামের সিতাকুন্ডের বারো আউলিয়ার হাফিজ জুট মিলস লি, লিজ পেয়েছে চিটাগাং ডেনিম লিমিটেড জেভি এম/এস প্রংক পার্টিসিপেটি বি. ভি, চট্টগ্রামের সিতাকুন্ডের বাঁশবাড়িয়ার আর আর জুট মিলস লি. লিজ পেয়েছে হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেড-প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, চট্ট্রগ্রামের কুমিরার গুল আহমেদ জুট মিলস লি. লিজ পেয়েছে কেডিএস টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, খুলনার খালিশপুর শহরের দি ক্রিসেন্ট জুট মিলস কোং লি. লিজ পেয়েছে বিশ্বাস পোল্ট্রি এন্ড ফিস ফিডস লিমিটেড (মাহবুব গ্রুপ অব ইনডাস্ট্রিজ), সিরাজগঞ্জের রায়পুরের জাতীয় জুট মিলস লি. লিজ পেয়েছে মাল্টি-লাইন ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড (প্রাণ আরএফএল গ্রুপ), খুলনার খালিশপুর শহরের প্লাটিনাম জুবিলী জুটমিলস লি. লিজ পেয়েছে আব্দুল্লাহ ব্যাটারি কোম্পানী প্রাইভেট লিমিটেড এন্ড হ্যামকো লেদার্স লিমিটেড এবং খুলনা দিঘলিয়ার চন্দনীমহল লিজ পেয়েছে মাল্টি-লাইন ইন্ড্রাসট্রিজ লিমিটেড (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ)।  

অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস লিমিটেড ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস লিমিটেড বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, চট্টগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও খুলনার আলিম জুটমিলস লিমিটেড নিয়ে মামলা চলছে। এছাড়া সীতাকুণ্ডের আমিন জুটমিলস লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বাসসকে বলেন, ‘২০২০ সালে তৎকালীন সরকার বিজেএমসির পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়। চলতি বছর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব বন্ধ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়।’

তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে গতিশীল করা ও অব্যবহৃত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে। পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশে পাটের ব্যবহার বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে আসবে।

পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি দেশে-বিদেশে পাটপণ্যের প্রদর্শনী আয়োজন, হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। পরে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদে, অর্থাৎ ৫ থেকে ২০ বছরের জন্য বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।