Favicon

ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য, ঝুঁকিতে ১৫ খাত

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ২:৪২ পূর্বাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য, ঝুঁকিতে ১৫ খাত
ছবি: সংগৃহিত
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সাইবারস্টেশনের পর্যবেক্ষণ; উন্মুক্ত তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব

বাংলাদেশের ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে ডার্ক ওয়েবে নাগরিকদের তথ্য ছড়িয়ে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ জন ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য এবং ১৮ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড। তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় সময়মতো তা শনাক্ত করা, সচেতনতা বাড়ানো এবং সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরে ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সাইবারস্টেশন। সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, সরকার ও শিক্ষাঙ্গনের প্রায় ১৫০ জন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী অংশ নেন।

সাইবারস্টেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পর্যালোচনা করা ডোমেইনগুলোর প্রায় সবগুলোর ক্ষেত্রেই লগইন তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব পরিসংখ্যান সর্বনিম্ন হিসাব; প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, উন্মুক্ত নাগরিক তথ্যের সবচেয়ে বড় অংশ সরকারি সেবা খাতের। অন্যদিকে, তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে।

সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, “যে ঝুঁকি আমরা দেখতে পাই না, তা আমরা সামলাতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে কোন তথ্য উন্মুক্ত হয়েছে এবং অপরাধীরা অপব্যবহার করার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারে।”

তিনি বলেন, সাইবার ঝুঁকি শনাক্ত করার পাশাপাশি তথ্যের সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকাতে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

দেশীয় সাইবার সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর নির্বাহী পরিচালক এম জে ফেরদৌস বলেন, ২০ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সাইবারস্টেশন গড়ে তুলেছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে করণীয় নির্ধারণ করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের নিজস্ব সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্যোগের মাধ্যমে অবদান রাখতে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহী।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সাইবারস্টেশন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ হয়েছে তাঁর। এসব উদ্যোগ সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধ ও মোকাবিলার কৌশল তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রযুক্তিবিদ মুনির হাসান বলেন, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর তৈরি ডার্কওয়াচের মতো দেশীয় প্রযুক্তিগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগকে আরও সমৃদ্ধ করা গেলে বাংলাদেশের সামগ্রিক সাইবার নিরাপত্তায় তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

সেমিনারে বাংলাদেশের ডার্ক ওয়েবে তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরামর্শক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম সচিব (আইসিটি) মো. ইমরান খান এবং টেক স্পেশালিস্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

আলোচনায় উন্মুক্ত হয়ে পড়া তথ্যের অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান হামিদা কাজী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আজাদ ও একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক ড. রাজেশ পালিত, গ্রামীণ ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাঙ্ক্ট ফ্যাকাল্টি ও গ্রামীণফোনের সাবেক সিআইও ড. মো. লুৎফর রহমান, মবিলের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা শাফকাত মাহমুদ ফাহমি এবং স্ট্রিম কানেক্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল মো. সোহেল রানা (অব.)।

ব্রেইন স্টেশন ২৩ জানায়, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে সাইবারস্টেশন। সময়মতো ঝুঁকি শনাক্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।