জাপানি বিনিয়োগে নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানোর আহ্বান রাষ্ট্রদূত সাইদার
ঢাকা, ৫ অক্টোবর: বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। একই সঙ্গে শিল্পের বহুমুখীকরণ, দেশীয় আপস্ট্রিম শিল্পের বিকাশ এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার ঢাকার একটি হোটেলে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
জেবিসিসিআইয়ের বিদায়ী সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন) ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশংসা করে সাইদা শিনিচি নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, মাত্র ২০-এর কিছু বেশি সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা জেবিসিসিআই এখন প্রায় ৪০০ সদস্যের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে শক্তিশালী সুশাসন, সদস্যদের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুফল এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের সঙ্গে সংগঠনের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখা জরুরি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগোচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে সরকারের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিকে জাপান স্বাগত জানায়।
বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে জাপানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন সাইদা শিনিচি। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন জাপানি বিনিয়োগের কয়েকটি উদ্যোগ যথাসময়ে বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর ও মতবিনিময় কৌশলগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে জেবিসিসিআইয়ের সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন) বলেন, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে জেবিসিসিআই।
তিনি বলেন, ইপিএ স্বাক্ষর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এখন চুক্তিটির সুযোগ কাজে লাগাতে দ্রুত অনুসমর্থন, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ব্যবসায়ী সমাজকে প্রস্তুত করার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে পূর্বানুমেয় ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, ধারাবাহিক নীতি-সহায়তা এবং শক্তিশালী ব্যবসায়িক যোগাযোগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ব্যবসায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
জেবিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল মারিয়া হাওলাদার জানান, বর্তমানে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা ৩৯১। গত নভেম্বর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইপিএ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, নীতি-অ্যাডভোকেসি, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, বিনিয়োগ উন্নয়ন এবং জাপান-বাংলাদেশ বিজনেস উইমেন কনফারেন্সসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংগঠনটি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে ইপিএ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার, বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধান, খাতভিত্তিক ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং, জাপান থেকে প্রতিনিধি দল আনা ও বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি দল পাঠানো এবং নারী উদ্যোক্তা ও তরুণ ব্যবসায়ী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা জানান তিনি।
সভায় জেবিসিসিআইয়ের নতুন পরিচালনা পর্ষদকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদের জন্য নতুন পর্ষদ নির্বাচিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তা, জেবিসিসিআইয়ের সদস্য, ব্যবসায়ী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় ২৪০ জন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষে জেবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি হিরোআকি ওউরা বিদায়ী সভাপতি, মহাসচিব ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। নতুন পরিচালনা পর্ষদও বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।