স্মার্ট ডাকসেবায় রূপান্তরের পথে বাংলাদেশ
দেশের ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবাকে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত অবকাঠামো ও কার্যকর গ্রাহকসেবার সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত, স্মার্ট ও জনবান্ধব লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
আজ ‘বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, বিস্তৃত নেটওয়ার্ক আর জনগণের দীর্ঘদিনের আস্থাই ডাক বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী সেবা পৌঁছে দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।
আগামী ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হবে। ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের (ইউপিইউ) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য- ‘সম্মিলিত ডাক নেটওয়ার্ক সীমাহীন সম্ভাবনা’। এই ভাবনাকে সামনে রেখেই প্রথাগত চিঠিপত্রের পাশাপাশি ই-কমার্স, পার্সেল, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মতো আধুনিক সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৯ ও ১০ অক্টোবর ডাক বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে রাতভর সেবা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী পালিত হবে ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’। এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক (ডাকটিকিট) প্রদর্শনী ও ডাক মেলার আয়োজন করা হবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম ডাক বিভাগের ইতিহাস ও আধুনিক রূপান্তর সম্পর্কে জানতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে প্রায় ৮১১ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। ই-কমার্স ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকদের পণ্য এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাঠাতে সেবাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পার্সেল সেবাতেও ভালো অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশগামী পার্সেল পরিবহন করা হয়েছিল ২৪০ টন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৬ টনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহন বেড়েছে ৭৬ টন, যা প্রবাসী বাংলাদেশি ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুবিধা তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, ১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) গঠিত হয়। ১৯৬৯ সালের টোকিও কংগ্রেসে দিনটিকে ‘বিশ্ব ডাক দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশে এবার দিবসটি এমন সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস, স্পিড পোস্ট, আন্তর্জাতিক পার্সেল, ই-কমার্স সহায়তা, কৃষিপণ্য পরিবহন, ডিজিটাল ট্রান্সফার ও ট্রেসিংসহ স্মার্ট লজিস্টিকস উদ্যোগের মাধ্যমে ডাক বিভাগ একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিচ্ছে।
১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর Universal Postal Union (UPU) প্রতিষ্ঠার দিনকে স্মরণ করে ১৯৬৯ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত UPU Congress-এ ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ব ডাক দিবসের মূল লক্ষ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ডাক ব্যবস্থার অবদান সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। ‘One Postal Network, Infinite Possibilities’ বা ‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী ডাক ও লজিস্টিকস সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।