Favicon

লালমনিরহাটে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ : ত্রাণমন্ত্রী

প্রতিবেদক: ST Reporter আগস্ট ১৬, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
লালমনিরহাটে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ : ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু আজ লালমনিরহাটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস
লালমনিরহাটে ১৫০ কোটি টাকায় মাদক নিরাময় হাসপাতাল হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রকল্পটির জন্য সরকার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এর বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ দুপুরে লালমনিরহাট শহরের মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের নবনির্মিত ছয়তলা অ্যাকাডেমিক ভবন উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে লালমনিরহাটে যেন মাদক প্রবেশ না করতে পারে সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদারের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, মাদকাসক্ত তরুণদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনা জরুরি। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের পর লালমনিরহাটে মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এসময় ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, জুয়া, ঘুষ ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। এ কার্যক্রম আরো জোরদার করা গেলে লালমনিরহাটকে মাদক নিয়ন্ত্রণে একটি দৃষ্টান্তমূলক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। মানুষের বিবেক, মূল্যবোধ ও মানবিকতাকে জাগ্রত করা, পরিবারে শান্তি নিশ্চিত করতে এবং সমাজে অপরাধ ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর দিলীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, কলেজের উপাধ্যক্ষ ও আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম, প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম সাদেকী।

অনুষ্ঠান শেষে কলেজের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।