সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও আইওএমের নতুন প্রকল্প
ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২৬: আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম-জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা) এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা জোরদার করতে একটি ২৪ মাসের প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
‘সাইবার প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার মোকাবিলা’ শীর্ষক প্রকল্পটি আইওএম ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। আইওএম বাংলাদেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অংশীদারত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। বাংলাদেশে সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগকে সহায়তা করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য। প্রকল্পের গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রশিক্ষণ উপকরণ ভবিষ্যতে নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান জাতীয় ও আন্তঃসংস্থার উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, চাকরির পোর্টালসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাচারকারীরা মানুষকে শনাক্ত, প্রলুব্ধ, নিয়ন্ত্রণ ও শোষণ করছে। এ ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ মোকাবিলায় প্রকল্পটি তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে কাজ করবে: তথ্য-প্রমাণ ও জ্ঞানভিত্তি শক্তিশালী করা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটিতে ডিজিটাল সচেতনতা ও দক্ষতা উন্নয়ন।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের চীফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও ইউএন উইং প্রধান এ. কে. এম. সোহেলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইওএম এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আইওএম বাংলাদেশের চীফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ বলেন, “প্রযুক্তি মানুষের যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও সুযোগের সন্ধানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। তবে এটি মানবপাচারকারীদের দ্বারাও শোষণের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। প্রযুক্তি যাতে শোষণের হাতিয়ার না হয়ে সমাধানের অংশ হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ, দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়াতে এই প্রকল্প সহায়তা করবে।”
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, “প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি মানবপাচার মোকাবিলায় প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের চলমান প্রচেষ্টাকে এই প্রকল্প আরো সহায়তা করবে। এর সামগ্রিক লক্ষ্য হলো সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচারের ঝুঁকি প্রতিরোধ, মোকাবিলা ও প্রশমনে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং জনগোষ্ঠীকে তথ্যভিত্তিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম করে তোলা।”