ঢাকায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সেফটি এক্সপো শুরু
ঢাকা: নিরাপত্তা প্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন ও সমাধান নিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো এবং অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো-২০২৬’।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দ্বিতীয়বারের মতো এ দুই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনী চলবে শনিবার পর্যন্ত।
দেশীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পণ্য প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী, আমদানিকারক, সফটওয়্যার ও সাইবার নিরাপত্তা খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। আই-স্টেশন লিমিটেড ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। তাঁর মতে, এটি শুধু প্রযুক্তি প্রদর্শনের আয়োজন নয়; নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নেটওয়ার্ক তৈরি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোরও একটি প্ল্যাটফর্ম।
ফজলুর রহমান বিদেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ও সাইবার নিরাপত্তায় বিদেশি সুরক্ষা শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিএসের মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন ও শিল্পায়নের সঙ্গে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও জোরদার করা প্রয়োজন।
মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা এখন শুধু ভবন বা সম্পদ রক্ষার বিষয় নয়। মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি তথ্য, ডিজিটাল ব্যবস্থা, ব্যবসা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষাও এর অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় বিনিয়োগকে মানুষ, ব্যবসা ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।
আই-স্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মধু সুদন সাহা বলেন, প্রদর্শনীতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাপনার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও পণ্য তুলে ধরা হচ্ছে। স্মার্ট ও সংযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার এবং নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিএসের সহসভাপতি মো. ওয়াহিদুল হাসান দিপু। তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশন, শিল্পায়ন ও নগরায়ণের সঙ্গে নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে। অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে ব্যয় হিসেবে না দেখে ব্যবসার ধারাবাহিকতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, স্মার্ট নজরদারি, সাইবার নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, অ্যাকসেস কন্ট্রোল ও সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থায় দেশে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সচেতনতার অভাব, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অসম প্রয়োগ এবং প্রযুক্তির ব্যয় এ খাতের বড় চ্যালেঞ্জ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ওশি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সাকি রেজওয়ানা এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (ঢাকা) মো. ছালেহ উদ্দিন। বিসিএসের যুগ্ম মহাসচিব মো. আহসানুল ইসলাম নওশাদ, কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসান, পরিচালক মো. ইকবাল হোসাইনসহ সংগঠনটির সদস্য ও বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি ব্যবসায়ীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে অতিথিরা ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
আয়োজকেরা জানান, প্রদর্শনীতে বিশ্বের ১০টি দেশের প্রায় ১৫০টি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড এবং ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন। এতে নিরাপত্তা ক্যামেরা, স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেম, সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তি, স্মার্ট সফটওয়্যার, অগ্নিনিরাপত্তা প্রযুক্তি, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আধুনিক পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে আয়োজিত ‘অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো-২০২৬’-এ শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও অগ্নিনিরাপত্তার বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হচ্ছে।
আয়োজকেরা আরও জানান, প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুটি সেমিনার হবে। এতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা বিনা মূল্যে অংশ নিতে পারবেন। তবে এর জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে।