Favicon

দুর্গোৎসব শুরু ১৬ অক্টোবর: বাড়তি ছুটির ঘোষণায় উৎসবে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা

প্রতিবেদক: ST Reporter অক্টোবর ৭, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
দুর্গোৎসব শুরু ১৬ অক্টোবর: বাড়তি ছুটির ঘোষণায় উৎসবে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা
ছবি : কোলাজ
দুর্গাপূজায় তিন দিনের ছুটি, প্রস্তুতি দেশজুড়ে জোরদার

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে সারা দেশজুড়ে। আগামী ১৬ অক্টোবর ‘মহা ষষ্ঠী’র মধ্য দিয়ে পাঁচদিন ব্যাপী এই উৎসব শুরু হবে। 

হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারের সাথে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি মিলবে সরকারি চাকুরীজীবীদের।

আসন্ন দুর্গাপূজায় তিন দিনের ছুটির ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বাসস’কে বলেন, ‘এটা অত্যন্ত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। সরকারকে ধন্যবাদ এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘এটা খুব ভালো হয়েছে, মানুষ নিশ্চিন্তে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঘুরে আসতে পারবে।’

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন বাসস’কে বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে উৎসবটি উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য সরকার যে তিন দিনের ছুটির ঘোষণা করেছে, আমরা সেই সিদ্ধান্তকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্বাগত জানাই। ছুটি বর্ধিত করায় এ বছর বাড়ি ফেরা মানুষদের কোনো ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে না।’

তবে তিনি দাবি জানান যে, হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের এই দাবিকে স্বীকৃতি ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী বছর থেকে নির্বাহী আদেশের পরিবর্তে স্থায়ীভাবে তিন দিনের দুর্গাপূজার ছুটি ঘোষণা করা হোক।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদও টানা তিন দিনের দুর্গাপূজার ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

বিএইচবিসিইউসি-র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ বলেন, ‘এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হলো।’

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা রতন পালের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বাসস’কে বলেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। দুর্গাপূজায় কম ছুটি থাকার কারনে বাড়ি যাওয়া হতো না। এ বছর আশা করছি সবাই বাড়িতে যাবো।

পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সারা দেশের পূজা কমিটি, মন্দির ও মণ্ডপগুলো এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জা, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জার ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।

উৎসব চলাকালে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীও কাজ করে যাচ্ছে।

১৬ অক্টোবর মহা ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং মহা সপ্তমী, মহা অষ্টমী ও মহা নবমী পেরিয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া পালিত হবে, এটি একটি শুভ তিথি যা দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা বয়ে আনে। সারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবেন। মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমেই উৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হবে। ওই দিন ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

উৎসব যতই ঘনিয়ে আসছে, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের পূজা মণ্ডপগুলো জমকালো সাজসজ্জা, বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নান্দনিক থিমের মাধ্যমে সেজে উঠছে। উৎসব চলাকালে মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে; তাঁরা সেখানে প্রার্থনা করবেন, প্রসাদ গ্রহণ করবেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

দুর্গাপূজা কেবল একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও উদযাপিত হয়।

এই উৎসবটি হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। উৎসবের প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার সাথে সাথে, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সারা দেশের ভক্তদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভার পর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আসন্ন পূজার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সরকারি অনুদান বৃদ্ধি এবং ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।

তবে, দুর্গাপূজা চলাকালীন নজরদারি জোরদার করতে কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)-এর তৈরি একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও মণ্ডপ আয়োজকদের সার্বক্ষণিক জেনারেটর প্রস্তুত রাখার এবং বিদ্যুৎ বা জেনারেটর বিকল হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ব্যাকআপ হিসেবে রিচার্জেবল লাইট বা জরুরি বাতি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।