Favicon

জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাস্তুচ্যুতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান শামা

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাস্তুচ্যুতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান শামা
ছবি : সংগৃহীত
কপ৩১-এ সরকারের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরতে সুশীল সমাজের প্রতি শামা ওবায়েদের আহ্বান

আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ সরকারের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের দাবি তুলে ধরতে সুশীল সমাজ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমি হারানো এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে কপ৩১-এ সুশীল সমাজের প্রণীত বাংলাদেশের অবস্থানপত্র প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিভিল সোসাইটি সংস্থা, অ্যাকশনএইডসহ বিভিন্ন এনজিও এ সভার আয়োজন করে।

শামা ওবায়েদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের নারী ও শিশুরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমি হারিয়ে যাচ্ছে এবং বহু মানুষ বসতভিটা ছেড়ে দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ুজনিত অভিবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা জরুরি।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। শিল্পে সম্পদের পুনর্ব্যবহার, চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা, উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি ও পুনরুদ্ধার এবং নদী-খাল খনন ও পুনঃখননের মতো কার্যক্রম এর মধ্যে রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া ২৫ কোটি গাছ রোপণ এবং কার্বন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কপ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন শামা ওবায়েদ। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার জন্য তিনি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

জলবায়ু অর্থায়নের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও মানুষের কাছে অর্থায়নের অর্থ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

সভায় কপ৩১-এ বাংলাদেশের ‘সোনালি সুতো’ পাটের সম্ভাবনাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, পাটকে জৈব অবক্ষয়যোগ্য, প্রাকৃতিক ও শূন্য-বর্জ্য উৎপাদনকারী তন্তু হিসেবে তুলে ধরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সম্মেলনে একটি জুট প্যাভিলিয়ন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে পাট থেকে তৈরি শৈল্পিক ও বাণিজ্যিক পণ্যের প্রচার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের প্রসার ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সভায় সুশীল সমাজ, এনজিওসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।