Favicon

ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজস্ব বাংলা এআই তৈরি করছে সরকার

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৪, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজস্ব বাংলা এআই তৈরি করছে সরকার
ছবি : সংগৃহীত
এনআইডি, পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনের তথ্য এক ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনা; সাইবার নিরাপত্তা সংস্থায় নিয়োগ হচ্ছে ১২০ জন

ঢাকা, ৪ নভেম্বর: নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল তথ্যভান্ডার একীভূত করে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ চালু, ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজস্ব বাংলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরি এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে একগুচ্ছ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি বিশ্বস্ত আন্তঃকার্যক্ষমতা (ইন্টারঅপারেবিলিটি) কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। এ ছাড়া সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিতে ১২০ জন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক ও একাডেমিক পেশাজীবীদের সংগঠন সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজমের (সিটিজে) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব ড. মো. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা।

সচিব জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও করসংক্রান্ত তথ্যসহ নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি ডেটাবেজ একীভূত করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর ফলে তথ্যের অপব্যবহার, পরিচয় জালিয়াতি ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ সহজ হবে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ডেটা সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে নিজস্ব এআই মডেল এবং শেয়ারড জিপিইউ অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজস্ব ভাষাভিত্তিক এআই মডেল এবং কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে বাংলা ভাষায় প্রযুক্তিসেবা উন্নয়নের পাশাপাশি সংবেদনশীল তথ্যের ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে।

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আইসিটি সচিব বলেন, দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখতে সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এ সংস্থায় ১২০ জন জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। তাঁদের বড় একটি অংশ হবেন কারিগরি বিশেষজ্ঞ।

এদিকে স্টার্টআপ বাংলাদেশ ও আইসিটি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান সচিব। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব সেতু ও টোল প্লাজার জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল টোল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সভায় সিটিজের সভাপতি ও দৈনিক সমকালের সহকারী সম্পাদক হাসান জাকির প্রযুক্তি খাতের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দক্ষ জনবল তৈরির নামে অতীতে যেভাবে নামমাত্র প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোনো কোনো গোষ্ঠীকে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে। অর্থের অপচয় হয়—এমন প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ থেকেও বিরত থাকার দাবি জানান তিনি।

সিটিজের মহাসচিব ও দৈনিক যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক সাইফ আহমাদ বলেন, প্রযুক্তি খাতের নীতি বাস্তবায়নে ডেটার গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। উদ্ভাবনী প্রকল্প ও অন্যান্য কর্মসূচির আওতায় দেওয়া আর্থিক সহায়তা যেন প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

মতবিনিময় সভায় সিটিজের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সংবাদ প্রতিবেদন তৈরির জন্য সাংবাদিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, এআই ও সাইবার নিরাপত্তাসহ নতুন প্রযুক্তি এবং কারিগরি বিষয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কমিটি ও সভায় সিটিজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

সিটিজের দাবিগুলোকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে আইসিটি সচিব ড. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা বলেন, প্রযুক্তি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন ছাড়া আইসিটি বিভাগ আর কোনো প্রশিক্ষণ দেবে না। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। নামমাত্র প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুযোগ আর থাকবে না।

স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। এ সময় সিটিজের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা এবং সংগঠনটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন সচিব।

সভায় সিটিজের সহসভাপতি মিজানুর রহমান সোহেল, পরিচালক (সাংগঠনিক) রেজাউল করিম জ্যান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদক কাজী সোহাগ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার রাহিতুল ইসলামসহ সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মজিবর রহমানও সভায় অংশ নেন।