Favicon

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত অপরাধী কোন ছাড়া পাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রতিবেদক: ST Reporter জুন ৩, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত অপরাধী কোন ছাড়া পাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি : পিআইডি
আদ-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত অপরাধী কোন ছাড়া পাবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া মামলা হলে আসামিপক্ষ সুবিধা পায়। কিন্তু আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তারা এ ক্ষেত্রে কোনো সুবিধা নিতে পারবে না। এ অপরাধে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। 

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী বিভাগে ও কুমিল্লায় নির্মাণ করা হচ্ছে। যার প্রতিটিতে একটি করে থাকবে আইসিইউ। 

তিনি বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির দরপত্র (টেন্ডার) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালের জন্য ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল লাগবে। প্রতিটি হাসপাতালে পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
 
ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থার সংকট সমাধানে একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং সেবক ও চিকিৎসকদের আবাসন ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে ঢামেক-এ নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই প্রকল্প তৈরি করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

এছাড়া স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ভঙ্গুর ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মিটফোর্ড হাসপাতালের দু-তিনটি ভবন যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। বিগত সরকারের লোকজন বিভিন্ন সময়ে এগুলো সাবলেট দিয়েছিল। আমরা সেই সাবলেটিং উচ্ছেদ করে ভবনগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছি। সেখানে নতুন আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে।

দেশের মাতৃস্বাস্থ্য ও নারী চিকিৎসায় বড় উদ্যোগের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে এবং মূলত চীনের অর্থায়নে দেশের পাঁচটি বৃহৎ শহরে বা শহরের সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এগুলো হবে সম্পূর্ণ নারীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এই হাসপাতালগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ছয় থেকে ১০টি উপজেলায় পাইলটিংভাবে ছেলে বা মেয়ে সবার জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে চিকিৎসার সেবার ব্যবস্থা করা হবে। কার্যক্রম স্বাভাবিক বা ঠিক হলে পরবর্তীতে সারা দেশে করা হবে।

ডেঙ্গুর ভেরিয়েন্টের ওপর নির্ভর করে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, হাম এবং ডেঙ্গু এ রোগ দু’টির প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রতিটি প্রাইভেট হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড বরাদ্দ থাকবে।

১৭ বছরের দুর্নীতি ও অবহেলায় স্বাস্থ্য খাতে কোনো কাজ হয়নি জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাতে কোনো কাজ হয়নি। এই দুর্নীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা খাত তথা নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।