Favicon

মার্চেন্টদের ব্যবসা সহজ করতে ‘পাঠাও কমার্স’ চালু

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ২:১৯ পূর্বাহ্ণ বিভাগ: জাতীয়
মার্চেন্টদের ব্যবসা সহজ করতে ‘পাঠাও কমার্স’ চালু
Photo: Courtesy
মার্চেন্টদের ব্যবসা সহজ করতে ‘পাঠাও কমার্স’ চালু

অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য স্টোরফ্রন্ট, অর্ডার, ইনভেন্টরি, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও গ্রাহক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার সুবিধা নিয়ে ‘পাঠাও কমার্স’ নামে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে পাঠাও।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় দুই লাখ মার্চেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বা সোশ্যাল কমার্সে যুক্ত রয়েছেন। এ খাত দেশের মোট ডিজিটাল কমার্সের ৮০ শতাংশের বেশি প্রতিনিধিত্ব করে।

পাঠাও বলছে, নতুন প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে মার্চেন্টরা এক জায়গা থেকেই ব্যবসার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। প্ল্যাটফর্মটি তিনটি বিষয়—ম্যানেজমেন্ট, দক্ষতা ও ব্যবসা সম্প্রসারণ—কে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন, এতদিন মার্চেন্টরা মূলত পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে পাঠাওয়ের সেবা ব্যবহার করতেন। এখন ডেলিভারির পাশাপাশি ব্যবসার অন্যান্য কার্যক্রমও একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “পাঠাও কমার্সের মাধ্যমে আমরা ডেলিভারির বাইরেও আমাদের সেবার পরিধি বাড়াচ্ছি। মার্চেন্টরা স্টোরফ্রন্ট ও অর্ডার থেকে শুরু করে ইনভেন্টরি, বিক্রি, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও গ্রাহক যোগাযোগ—সবকিছু একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিচালনা করতে পারবেন।”

এক প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা

পাঠাও কমার্সের মাধ্যমে মার্চেন্টরা পণ্যের ক্যাটালগ, অর্ডার, পেমেন্ট, ইনভেন্টরি ও ডেলিভারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অনলাইন স্টোরফ্রন্ট তৈরি করতে পারবেন।

প্ল্যাটফর্মটি Shopify, WooCommerce ও Daraz-এর মতো তৃতীয় পক্ষের বিক্রয় চ্যানেলের সঙ্গেও যুক্ত করা যাবে। ফলে বিভিন্ন চ্যানেলে পরিচালিত বিক্রি, অর্ডার, ইনভেন্টরি ও আয়সংক্রান্ত তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে।

এর ফলে বিভিন্ন আলাদা টুলে তথ্য হালনাগাদ ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন কমবে বলে জানিয়েছে পাঠাও।

এক ক্লিকেই অর্ডার থেকে ডেলিভারি

অনলাইন ব্যবসায়ীদের অনেককে অর্ডার নেওয়ার ক্ষেত্রে Facebook Messenger, Instagram, WhatsApp, স্প্রেডশিট ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মসহ একাধিক মাধ্যম ব্যবহার করতে হয়। এতে একই তথ্য বারবার দিতে হয় এবং সময়ও বেশি লাগে।

পাঠাও কমার্সে এসব গ্রাহক যোগাযোগ এক জায়গায় আনার জন্য একটি সমন্বিত চ্যাট ইনবক্স রাখা হয়েছে। অফিসিয়াল Meta ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন যোগাযোগ চ্যানেলের কথোপকথন সেখানে দেখা যাবে।

চ্যাটের মধ্যেই গ্রাহকের আগের অর্ডারের তথ্য দেখা এবং AI-নির্ভর সহায়তায় দ্রুত ডেলিভারি ঠিকানা যুক্ত করার সুবিধাও থাকছে। পাঠাও জানিয়েছে, এ সুবিধায় তাদের প্রায় এক কোটি ইউনিক ঠিকানার জাতীয় পর্যায়ের ডেটাবেজ ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ ছাড়া গ্রাহকের সঙ্গে কথোপকথনের মধ্যেই ‘ইনস্ট্যান্ট চেকআউট’ লিংক তৈরি করা যাবে। গ্রাহক অর্ডার ও পেমেন্ট সম্পন্ন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্চেন্টের ঠিকানা থেকে পণ্য সংগ্রহের জন্য রাইডার পাঠানোর ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে গ্রাহককে ট্র্যাকিং লিংক দেওয়া হবে।

ব্যবসা সম্প্রসারণে তথ্যভিত্তিক সুবিধা

পাঠাও কমার্সে মার্চেন্টরা অনলাইন স্টোরফ্রন্ট নিজেদের মতো করে সাজানো, বিক্রি ও ইনভেন্টরি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণধর্মী তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

পাঠাও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে Meta Catalog ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্ম থেকেই স্পনসরড ক্যাম্পেইন পরিচালনার সুবিধাও যুক্ত করা হবে।

প্ল্যাটফর্মটিতে Pathao Pay-এর মাধ্যমে নিরাপদ পেমেন্ট ও তাৎক্ষণিক অর্থ উত্তোলনের সুবিধা, রিয়েল-টাইম ডেলিভারি ট্র্যাকিং এবং গ্রাহক ট্রাস্ট রেটিংও থাকছে।

পাঠাওয়ের দাবি, ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ট্রাস্ট রেটিংয়ের কারণে সোশ্যাল কমার্সে পণ্য ফেরতের হার এক অঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে এ হার প্রায় ৩০ শতাংশ।

মার্চেন্টরা কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমে তাদের পুরো পণ্য ক্যাটালগ Pathao Shop-এ প্রকাশ করে অতিরিক্ত বিক্রয় চ্যানেলও ব্যবহার করতে পারবেন। দ্রুত ডেলিভারির প্রয়োজন হলে Pathao Instant Delivery ব্যবহারের পাশাপাশি সরাসরি API ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে ডেলিভারি প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার সুবিধাও থাকবে।

পাঠাও বলছে, নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শুধু ই-কমার্স লজিস্টিকস সেবা প্রদানকারী হিসেবে নয়, বরং লজিস্টিকস, পেমেন্ট, গ্রাহক যোগাযোগ ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনার সমন্বিত ডিজিটাল কমার্স অবকাঠামো হিসেবে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।