প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার নিয়মিত ক্যাম্পের ঘোষণা
পাবনা, বেড়া | পাবনার বেড়া উপজেলার সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত অর্থোপেডিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ অর্থোপেডিক মেডিকেল ক্যাম্প। শুক্রবার (৩ জুলাই) সি অ্যান্ড বি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নুরুন্নাহার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে আয়োজিত এই ক্যাম্পে শতাধিক রোগীকে স্বল্প খরচে আধুনিক অর্থোপেডিক ও ট্রমা চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।
মাত্র ১০০ টাকা নামমাত্র ভিজিটে আয়োজিত এই চিকিৎসা ক্যাম্পের নেতৃত্ব দেন ঢাকা ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক, ট্রমা, আর্থ্রোস্কোপি ও আর্থ্রোপ্লাস্টি সার্জন অধ্যাপক (অব.) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডা. মো. জামিল জাইদুর রহিম। তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকসহ মোট ছয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।
ক্যাম্পে বেড়া উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক রোগী হাড়, জোড়া, মেরুদণ্ড, ট্রমা ও অন্যান্য অর্থোপেডিক সমস্যার চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করেন।
এত অল্প ব্যয়ে নিজ এলাকায় দেশের অন্যতম শীর্ষ অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের চিকিৎসাসেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
চিকিৎসা নিতে আসা সানিলা গ্রামের রিকশাচালক আব্দুস সামাদ বলেন, “আমার মতো মানুষের পক্ষে ঢাকায় গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নেওয়া খুবই কঠিন। আজ এত কম খরচে ভালো চিকিৎসা পেয়ে আমি অনেক খুশি।”
ষাটোর্ধ্ব রহিমা খাতুন বলেন, “এত অল্প খরচে বাড়ির কাছেই চিকিৎসা নিতে পারছি, এটা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। দরিদ্র মানুষের কথা বিবেচনা করে এ ধরনের ক্যাম্প নিয়মিত চালু রাখা উচিত।”
রোগীদের ব্যাপক সাড়া এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পটি প্রতি মাসে আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. মো. জামিল জাইদুর রহিম জানান, রোগীদের অনুরোধের কথা বিবেচনা করে এখন থেকে প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার নুরুন্নাহার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে নিয়মিত অর্থোপেডিক মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। এতে এলাকার মানুষ স্বল্প খরচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই উদ্যোগের ফলে পাবনার বেড়া ও আশপাশের এলাকার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগীদের উন্নত অর্থোপেডিক চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। এতে যাতায়াতের ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয় কমার পাশাপাশি নিজ এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা সহজলভ্য হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এমন মানবিক উদ্যোগ গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত অর্থোপেডিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।