এক ব্যাগ রক্ত একটি থ্যালাসেমিয়া রোগীর কাছে নতুন জীবনের সমান। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদান শুধু একজন মানুষের জীবন রক্ষা করে না, এটি দাতার জন্যও মানবিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের এক অনন্য সুযোগ।
ঢাকা, ২ আগস্ট, ২০২৬: বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির ‘রক্তদাতা সম্মাননা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ রক্তদাতাদের অন্যতম হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন হামিদ জামিল হোসাইন (জামিল)। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জীবন বাঁচাতে তিনি এ পর্যন্ত রেকর্ড ৪৪ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।
গত ৩১ জুলাই রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমানের হাত থেকে তিনি সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন।
বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি মোট ১৭০ জন নিয়মিত রক্তদাতা এবং ৪১টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে ‘রক্তদাতা সম্মাননা-২০২৬’ প্রদান করে। সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পঞ্চমবার বা তার বেশি রক্তদানকারী ১২০ জন এবং দশমবার বা তার বেশি রক্তদানকারী ৫০ জনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অন্যান্য সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান রোবেল ও তুহিন হোসাইন, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের সভাপতি শাহরিয়ার আহমেদ, ইউথ ক্লাব অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা মোস্তাকিম এবং রোটারি ক্লাব অব ঢাকা কারওয়ানবাজারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক, চিকিৎসা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বর্তমানে একটি বিদেশি দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত হামিদ জামিল হোসাইন গত ১৪ বছর ধরে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। সম্মাননাপ্রাপ্তদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবসেবার আদর্শ থেকেই তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদানে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
তিনি বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও নিয়মিত রক্তদান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে রক্তদানে সক্ষম সকল নাগরিক, বিশেষ করে তরুণদের নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, তার ছোট ভাই ওসামা জামিলও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির মাধ্যমে নিয়মিত রক্তদান করে আসছেন, যা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে।
হামিদ জামিল বলেন, “সর্বোচ্চ রক্তদাতার এই স্বীকৃতি আমার কাছে শুধু সম্মানের নয়; এটি সমাজের প্রতি আরও বড় দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার।“
থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য এক ব্যাগ রক্তের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি তার এক প্রিয় শিক্ষকের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দুই সন্তানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এক ব্যাগ রক্ত একটি থ্যালাসেমিয়া রোগীর কাছে নতুন জীবনের সমান। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদান শুধু একজন মানুষের জীবন রক্ষা করে না, এটি দাতার জন্যও মানবিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের এক অনন্য সুযোগ।“
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হয়ে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে—এটাই তার প্রত্যাশা।