সানস্ক্রিনে এসপিএফ শুধু একটি সংখ্যা নয়
সকালে বের হওয়ার আগে স্কিন কেয়ার এখন অনেকেরই দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। ফেসওয়াশ, টোনার, ময়েশ্চারাইজার ও সিরামের পাশাপাশি সেই রুটিনে জায়গা করে নিয়েছে সানস্ক্রিনও। তবে সানস্ক্রিন হাতে নেওয়ার পর, পছন্দ করার ক্ষেত্রে যে সংখ্যাটির দিকে সবচেয়ে আগে চোখ যায়, সেটি হলো এসপিএফ—সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর। কত এসপিএফ ব্যবহার করা উচিত, সেটি নিয়ে তাই প্রশ্নও থাকে অনেকের। কিন্তু তার আগে জানা দরকার, এসপিএফ আসলে কী?
সহজভাবে বললে, এসপিএফ হলো সানস্ক্রিনের, সূর্যের আলো থেকে নির্গত ক্ষতিকর ইউভি বি এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার একটি পরিমাপ। অন্যদিকে টঠঅ রশ্মিও ত্বকের ক্ষতি, অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু ঝচঋ-এর সংখ্যা নয়, সানস্ক্রিনটি টঠঅ ও টঠই—দুই ধরনের রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় কি না, অর্থাৎ এটি ব্রড স্পেকট্রাম কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এসপিএফের সংখ্যা যত বাড়ে, টঠই-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষাও বাড়ে; তবে এই বৃদ্ধি সরলরৈখিক নয়। প্রচলিত হিসাবে ঝচঋ ১৫ প্রায় ৯৩%, ঝচঋ ৩০ প্রায় ৯৭% এবং ঝচঋ ৫০ প্রায় ৯৮% টঠই রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। ঝচঋ ১০০-এর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৯৯%। অর্থাৎ ঝচঋ ৩০ থেকে ঝচঋ ৫০-এ সংখ্যাটি অনেকটা বাড়লেও টঠই ফিল্টার করার হারে পার্থক্য তুলনামূলকভাবে ছোট। এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ঝচঋ কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রোদে নিরাপদে থাকার অনুমতি নয়। অর্থাৎ ঝচঋ ৩০ ব্যবহার করলে ঝচঋ ১৫-এর তুলনায় দ্বিগুণ সময় রোদে থাকা যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। সূর্যের তীব্রতা, কতটা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে, ঘাম, পানি এবং পুনরায় সানস্ক্রিন লাগানো হয়েছে কি না—এসবের ওপর বাস্তব সুরক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে।
তাহলে নিজের জন্য সঠিক সানস্ক্রিন বাছাই করার সময় কী দেখা উচিত?
অসবৎরপধহ অপধফবসু ড়ভ উবৎসধঃড়ষড়মু-এর পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ঝচঋ ৩০ বা তার বেশি, নৎড়ধফ-ংঢ়বপঃৎঁস সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া ভালো। বাইরে থাকলে সাধারণভাবে প্রতি দুই ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়; সাঁতার কাটা বা বেশি ঘাম হলে আরও ঘন ঘন লাগাতে হতে পারে।
এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—প্যাকেজে লেখা দাবিটির পেছনে পরীক্ষার প্রমাণ আছে কি না। একটি সানস্ক্রিনের বোতলে ঝচঋ ৩০, ৫০ বা ১০০ লেখা থাকলেই সেই সংখ্যাটি যে বাস্তব পরীক্ষায় একইভাবে পাওয়া গেছে, তা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষাটি কখন ও কোথায় হয়েছে এবং কোন ল্যাব তা করেছে—এসব তথ্যও ভোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাস্টমারদের কাছে কোম্পানিগুলো এসব তথ্য সহজভাবে তুলে ধরে না। ফলে কোনো পণ্য তার প্যাকেজে করা দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে যাচাই করা কঠিন হয়ে যায়।
বাংলাদেশের বাজারে কিছু ব্র্যান্ড এখন তাদের ঝচঋ পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করছে।এই জায়গায় উদাহরণ হিসেবে ঝশরহ ঈধভব-এর একটি সানস্ক্রিনের পরীক্ষার তথ্য উল্লেখ করা যায়। ব্র্যান্ডটির শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, ঝশরহ ঈধভব ঝঁহংপৎববহ ঝচঋ ৫০ চঅ+++ রিঃয ঠরঃধসরহ ঈ পণ্যটি তাইওয়ানের বিখ্যাত ইরড়হবংঃ ইরড়পযবসরপধষ ঞবপযহড়ষড়মু ঈড়., খঃফ থেকে পরীক্ষিত। পরীক্ষার রিপোর্টে টঠ ংঢ়বপঃৎড়ঢ়যড়ঃড়সবঃৎু পদ্ধতি ব্যবহার করে ঝচঋ ৫২.৭৩ পাওয়া যায় বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া এটি ডঅঋঋঊঘ জবংবধৎপয খধনড়ৎধঃড়ৎু খরসরঃবফ-এ পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। উক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে টঠ ংঢ়বপঃৎড়ঢ়যড়ঃড়সবঃৎু পদ্ধতি ব্যবহার করে ঝচঋ ৫২.৫১ পাওয়া যায়। রিপোর্টে উল্লেখিত ফলাফলটি প্যাকেজে দেওয়া ঝচঋ ৫০ দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অর্থাৎ, সানস্ক্রিন কেনার সময় শুধু “ঝচঋ” লেখা আছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। ঝচঋ-এর পাশাপাশি ব্রড স্পেক্ট্রাম সুরক্ষা, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফলের প্রমাণ এবং পণ্যটি নিজের ত্বক ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সঙ্গে কতটা মানানসই—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা উচিত।
শেষ পর্যন্ত সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু বোতলের একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সঠিক পরিমাণে ব্যবহার, নিয়মিত পুনরায় প্রয়োগ এবং রোদ থেকে সুরক্ষার অন্যান্য ব্যবস্থা—সবকিছু মিলেই কার্যকর সান প্রোটেকশন তৈরি হয়।
ইমপোর্টেড হোক কিংবা লোকাল—পণ্যের দাবি, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফল এবং এসব তথ্য প্রকাশে ব্র্যান্ডের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জানার অধিকার ভোক্তাদের রয়েছে। আর একটি ভালো সানস্ক্রিন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেই তথ্য জানাটাই হতে পারে প্যাকেজের বড় একটি সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।