ডট ইন্টারনেট অফিসে হামলা: আইএসপিএবি’র অবকাঠামো ও নিরাপত্তার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) কার্যালয়ে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলাকে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ও ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)।
রবিবার (১৪ জুন) বনানীতে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি নেতারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে হামলার বিবরণ, ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁঞা, সহ-সভাপতি নেয়ামুল হক খান, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব আলম রাজু ও ফুয়াদ মোহম্মদ শরফুদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মইন উদ্দিন আহমেদ, পরিচালক রাশেদুর রহমান রাজন, মো: মিঠু হাওলাদার, সাব্বির আহমেদ, রাইসুল ইসলাম তুহিন, মো: জুবায়ের ইসলাম ও এস এম সাইফুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ।
আইএসপিএবি বলেছে, গত ৯ জুন দিবাগত রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় ডট ইন্টারনেটের প্রধান কার্যালয়সহ রাজধানীর বাড্ডা, চাঁদপুর সদর, কুমিল্লার দেবিদ্বার, গাজীপুর ও বগুড়ার ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিসে সংঘটিত হামলা শুধু এক প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ নয়; এটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামা ও ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হামলার সময় একদল সন্ত্রাসী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী আহত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও অবকাঠামার ক্ষতি হয়। হামলার সঠিক সময়কাল, আহতদের সংখ্যা ও ক্ষতির পরিমাপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত তথ্য সংগঠনটি প্রকাশ করেনি, তবে ঘটনার প্রকোপ ও অবকাঠামার ক্ষতি কোটি কোটি গ্রাহকের ইন্টারনেট সেবার ধারাবাহিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে নেতারা উল্লেখ করেন।
আইএসপিএবির নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে আইএসপি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ধরনের হামলা খাতটির নিরাপত্তা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সেবার ধারাবাহিকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
নেতারা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও আইনি প্রক্রিয়ার অবস্থা সম্পর্কে পরবর্তী মন্তব্য পাওয়া মাত্র আপডেট দেবেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানায় যে হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট অবকাঠামাকে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় থানাকে আইএসপিগুলোতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড হলে দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই দাবিগুলো আইএসপি খাতের নিরাপত্তা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি বলে সংগঠনটি মনে করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনের এই সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় বিনিয়োগ ও সেবা উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইন্টারনেট অবকাঠামার নিরাপত্তা না থাকলে ডিজিটাল সার্ভিস ডিলেই, ডাটা লস ও ব্যবসায়িক ঝুঁকি বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটাল অর্থনীতির গ্রোথ রেট কমিয়ে দিতে পারে। আইএসপিএবি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ওপর আশাবাদী এবং ঘটনার সুষ্টি তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও বিচারের সময়সীমা সম্পর্কে পরবর্তী মন্তব্য পাওয়া মাত্র এই রিপোর্ট আপডেট করা হবে।
এই হামলা দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং ডিজিটাল অর্থনীতির গতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি করে। আইএসপিএবি এমন হামলা খাতের নিরাপত্তা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও সেবার ধারাবাহিকতায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে মনে करता এবং সরকারী কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের ওপর আশাবাদী। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত, আহতদের সংখ্যা, ক্ষতির পরিমাপ ও আইনি প্রক্রিয়ার অবস্থা সম্পর্কে পরবর্তী মন্তব্য পাওয়া মাত্র এই রিপোর্ট আপডেট করা হবে।