পাকিস্তান থেকে আমদানি বাড়ায় লজিস্টিকস ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং সেবার চাহিদা বৃদ্ধি
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লজিস্টিকস সহায়তা ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং সেবার চাহিদাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে তুলনামূলক কম পরিমাণে পণ্য আমদানি করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সরবরাহকারী খোঁজা, পণ্য পরিবহন ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এ ধরনের সেবার প্রয়োজন হচ্ছে।
দ্য শাটল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, গত এক বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ অন্তত ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের আমদানিতে কাঁচামাল, টেক্সটাইল পণ্য ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। কৃষিপণ্যের মধ্যে হলুদ ভুট্টার আমদানি ১৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চিনির আমদানি ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।
টেক্সটাইল খাতের কাঁচামালও আমদানির বড় অংশজুড়ে রয়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে ডেনিম কাপড় আমদানির পরিমাণ ২৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং কটন ইয়ার্নের আমদানি বেড়েছে ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল, রাসায়নিক, কাঁচ শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, চূর্ণ কাঁচ, প্লাস্টিক ও রাবার, খনিজ পদার্থ এবং পেঁয়াজ ও আলুর মতো পণ্য পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয়।
তাওয়াক্কাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাকির বলেন, বাংলাদেশে এমন অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি আমদানিকারক রয়েছেন, যাঁরা তুলনামূলক কম পরিমাণে পাকিস্তান থেকে পণ্য আনেন। কম পরিমাণের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে তাঁদের আলাদা ধরনের লজিস্টিকস ও আমদানি সহায়তা প্রয়োজন হয়।
জাকিরের দাবি, ছোট পরিমাণে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক আমদানি প্রক্রিয়া পরিচালনায় নানা জটিলতার কারণে কিছু ব্যবসায়ী অনানুষ্ঠানিক পথে বা লাগেজের মাধ্যমে পণ্য আনার চেষ্টা করেন। এতে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি সরকার রাজস্ব হারাতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, এ ধরনের আমদানিকে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে আনতে লজিস্টিকস ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে তাওয়াক্কাল এন্টারপ্রাইজ পাকিস্তানের প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যুক্ত করতে বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) সোর্সিং এবং ডোর-টু-ডোর আমদানি সেবা চালু করেছে বলে জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, সেবার আওতায় রয়েছে পণ্য সোর্সিং, সরবরাহকারী শনাক্তকরণ, পণ্যের মান যাচাই, দাম নিয়ে দর-কষাকষি, আমদানির কাগজপত্র তৈরিতে সহায়তা, কাস্টমস ছাড় এবং ঢাকায় পণ্য পৌঁছে দেওয়া।
তাওয়াক্কাল এন্টারপ্রাইজ জানিয়েছে, পাকিস্তানের করাচি, লাহোর, ফয়সালাবাদ, ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, শিয়ালকোট, বাহাওয়ালপুর, মুলতান, গুজরানওয়ালা ও হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্র থেকে পণ্য সংগ্রহ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি আকাশ ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি ডোর-টু-ডোর ডেলিভারি সেবা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সরবরাহকারী শনাক্ত করা থেকে শুরু করে আমদানি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পরিচালনায় সহায়তা করার কথাও জানিয়েছে তারা।
প্রতিষ্ঠানটির পণ্য তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানি পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী, গয়না, শিশুদের পোশাক, জুতা, পুরুষদের পাঞ্জাবি ও কাবলি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ব্যাগ, পারফিউম ও আতর, মেহেদি, খেলাধুলার সামগ্রী, যন্ত্রাংশ এবং সার্জিক্যাল পণ্য।
এ ছাড়া সাধারণ সার্জিক্যাল, ডেন্টাল ও হাসপাতালের সরঞ্জাম আমদানি এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহের সেবাও দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তাওয়াক্কাল এন্টারপ্রাইজের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সোর্সিং সেবার মধ্যে রয়েছে কারখানা ও পাইকারি বাজার পরিদর্শন, পণ্যের মান যাচাই এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে দর-কষাকষি। আমদানির কাগজপত্র প্রস্তুত ও কাস্টমস ছাড়ের ক্ষেত্রেও তারা সহায়তা করে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করতে আগ্রহী খুচরা বিক্রেতা, পাইকারি ব্যবসায়ী ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য করে এসব সেবা দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সের সপ্তম তলার ৭৩৭ নম্বর দোকান থেকে তাওয়াক্কাল এন্টারপ্রাইজের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পাকিস্তান-বাংলাদেশ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের জন্য সোর্সিং থেকে আমদানি ও পণ্য সরবরাহ পর্যন্ত সমন্বিত সেবা দেওয়াই তাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সের সপ্তম তলার ৭৩৭ নম্বর দোকান থেকে তাওয়াক্কাল এন্টারপ্রাইজের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পাকিস্তান-বাংলাদেশ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের জন্য সোর্সিং থেকে আমদানি ও পণ্য সরবরাহ পর্যন্ত সমন্বিত সেবা দেওয়াই তাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পণ্যের ক্যাটালগ ও পাইকারি মূল্যের তথ্য জানতে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে +৮৮০১৯৭৪৭৯৭০০৮ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।