ওয়ালটনের প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতায় মুগ্ধ মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস
দেশে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস (এমইএস)। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া গেলে দেশীয় পণ্য কেনার বিষয়টি আগে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল হাসান উজ জামান।
সম্প্রতি গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির কারখানা ও প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ওয়ালটনের উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এমইএসের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
মেজর জেনারেল হাসান উজ জামানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন এমইএসের ডিরেক্টর, ওয়ার্কস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁদের স্বাগত জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ওয়ালটনের ডিসপ্লে সেন্টার, বিভিন্ন উৎপাদন কারখানা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তাঁরা লিফট, এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, কেবল ও কম্প্রেসরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক, ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদনপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।
মেজর জেনারেল হাসান উজ জামান বলেন, ‘ওয়ালটনের বিশাল উৎপাদন পরিধি, পণ্যের বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমাদের সত্যিই মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা চাই, ওয়ালটন এই সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণ করুক এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে এগিয়ে যাক।’
দেশীয় পণ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া গেলে তাঁরা প্রথমে দেশীয় পণ্য বিবেচনা করতে চান। এ ক্ষেত্রে ওয়ালটন তাঁদের বিবেচনায় আসা স্বাভাবিক। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় উৎপাদন, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটির অবদান প্রশংসনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এমইএসের ডিরেক্টর, ওয়ার্কস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম বলেন, বাংলাদেশে বড় পরিসরে উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে ওঠা এবং সেখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি হওয়া গর্বের বিষয়।
তিনি বলেন, ওয়ালটন এখন শুধু দেশের বাজারকে লক্ষ্য করে পণ্য তৈরি করছে না; আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েও পণ্য নকশা ও উৎপাদন করছে। এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের সক্ষমতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
ওয়ালটনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সায়েম। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলাকে তাঁরা গুরুত্ব দেন। এমইএসের প্রতিনিধিদলের এই সফর দেশীয় প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিপণ্য দেশে উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ওয়ালটন। এ জন্য গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পণ্যের মান ও বিক্রয়োত্তর সেবা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিজনেস কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তানভীর আনজুম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। তিনি এমইএসের প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান এবং দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে ওয়ালটনের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, ওয়ালটন এসির সিবিও মো. তানভীর রহমান, হেড অব করপোরেট সেলস আহমেদ তানভীর, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর প্রতীক কুমার মোদক, ওয়ালটন লিফটের সিবিও মো. মাহমুদুর রহমান এবং হেড অব অ্যাডমিন তানভীর আহাম্মদসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে এ সফরে এমইএসের পক্ষ থেকে ওয়ালটনের সঙ্গে কোনো ক্রয়াদেশ বা নির্দিষ্ট পণ্য কেনার চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।