Favicon

বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৩, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব
সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট (এসডিপিআই) আয়োজিত ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বক্তব্য দেন।
দক্ষিণ এশিয়াসহ চার অঞ্চলকে যুক্ত করে সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ার প্রস্তাব পাকিস্তানের অর্থ উপদেষ্টার

ঢাকা, ৩ নভেম্বর: বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র (গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব) এবং রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাকে যুক্ত করে সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট (এসডিপিআই) আয়োজিত ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর এমন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা প্রয়োজন, যা স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে, প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদন ধারায় ফিরতে এ ধরনের আঞ্চলিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শিক্ষা খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় বর্তমানের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, সুষম ও জনবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং বিগত সরকারের শাসনামলে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য কাটিয়ে উঠতে এসব উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল।

চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্যানেল ও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের ৩০০ জনের বেশি উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি নারী রয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের পর অধ্যাপক তিতুমীর ইসলামাবাদে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে একটি জামগাছের চারা রোপণ করেন।

এ ছাড়া পাকিস্তানের অর্থ ও রাজস্ববিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল, জ্বালানিবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও উৎপাদনবিষয়ক উপদেষ্টা হারুন আখতার খানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।