কোরিয়ায় সেমিকন্ডাক্টর সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের চলমান গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর রোডশোর অংশ হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংকে কেন্দ্র করে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
দিনের শুরুতে এস কে হাইনিক্স (SK hynix)-এর অ্যাডভান্স টিমের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রোডশোর লজিস্টিক, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, কর্মী উন্নয়ন এবং ইকোসিস্টেম গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
পরবর্তীতে বিএসআইএ-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান ডাইন্যামিক সলিউশন্স ইনোভেটরস (ডিএসআই), প্রাইম সিলিকন টেকনোলজি লি:, সিলিকোনোভা লিমিটেড, উলকাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড এবং নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড-এর প্রতিনিধিরা কোরিয়ান সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন হাউস সুপারগেইট (SuperGate)-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম, এআই-কেন্দ্রিক চিপ ডিজাইন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্টে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে।
এছাড়াও বিএসআইএ প্রতিনিধিদল কোরিয়ো সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (কেএসআইএ)-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে। সেখানে তিনটি কৌশলগত বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়:
কেএসআইএ নেতৃত্ব বাংলাদেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর ভিশনের প্রশংসা করে এবং বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান, তরুণ জনশক্তি, ক্রমবর্ধমান ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতা এবং সুসংগঠিত ইকোসিস্টেম গঠনের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। আলোচনায় উঠে আসে যে, সঠিক নীতিগত সমন্বয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ধৈর্যশীল সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ১২তম সেমিকন্ডাক্টর হাবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
দিনের কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে বিএসআইএ এবং সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে একটি ব্যাঙ্কুয়েট রিসেপশনের মাধ্যমে। এতে কোরিয়া ও বাংলাদেশের শিল্পনেতা, নীতিনির্ধারক, গবেষক, একাডেমিক প্রতিনিধি এবং কর্পোরেট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেএসআইএ-এর প্রতিনিধি, বিএসআইএ সভাপতি জনাব এম এ জব্বার এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মান্যবর তৌফিক ইসলাম শাতিল।