Favicon

 দেশে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জনপ্রশাসনের সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
 দেশে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জনপ্রশাসনের সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি
Photo: Courtesy
জটিল বৈশ্বিক পরিবেশ উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক জাইকা’র বিশেষ সেমিনার

[ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬] – দেশে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জনপ্রশাসনের সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী। 

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি’র (জাইকা) আয়োজনে ‘ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ইন অ্যা কমপ্লেক্স গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট – পার্সপেক্টিভস অন জাপান’স ওডিএ অ্যান্ড ফিউচার পার্টনারশিপস’ শীর্ষক এক সেমিনারে  একথা বলেন। এসময় সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতার বর্তমান চিত্র এবং জাপান-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. সাইদা শিনিচি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ মিস জুনকো তাকাহাশি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোশি নাকানিশি। পরবর্তীতে প্যানেল আলোচনা পর্ব শুরু হয়, যার সঞ্চালনা করেন জাইকা হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশনস স্ট্র্যাটেজি বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল মি. রায়ুতারো মুরোতানি। 

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইআরডি সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং অ্যান্ড ট্রেনিং উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস. এম. আলী রেজা; কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোশি নাকানিশি; এবং জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। 

স্বাগত বক্তব্যে জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ মিস তাকাহাশি জুনকো বলেন, “সদ্য স্বাধীন একটি জাতি থেকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত-বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই রূপান্তর দূরদর্শিতা, সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই যাত্রায় বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে থাকতে পেরে জাপান গর্বিত।”

মূল প্রবন্ধে উন্নয়ন সহযোগিতার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোশি নাকানিশি বলেন, “বিগত কয়েক দশকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতার ধরনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আমরা এখন এমন এক সময়ে প্রবেশ করছি, যেখানে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় দীর্ঘদিনের সহযোগিতার শক্ত ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানকে তাদের অংশীদারিত্বের ধরনেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী বলেন, “পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জনপ্রশাসনের সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। জনপ্রশাসন সংস্কার এবং দক্ষতা ও যোগ্যতাভিত্তিক একটি পেশাদার সিভিল সার্ভিস গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আমরা আশা করি।” 

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. সাইদা শিনিচি বলেন, “বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই আমাদের অংশীদারিত্বের ধরনেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ধীরে ধীরে সহযোগিতার ক্ষেত্রে শুধু সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগের দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, উৎপাদন ও স্টার্টআপ খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়।”
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ে দেশটি এমন অংশীদারিত্ব চায়, যেখানে জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ থাকবে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুশাসন, টেকসই অবকাঠামো, জলবায়ু সহনশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সব অংশীজনের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।”
ক্রমবর্ধমান জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও জাপানের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব কীভাবে আরও গভীর ও কার্যকর করা যায়, সেমিনারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা যৌথ উদ্যোগ, জ্ঞান বিনিময়, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সমৃদ্ধ, সহনশীল ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।