Favicon

৩০ বছর পর ইসলামাবাদে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, প্রদর্শিত হলো চিত্রকর্ম

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
৩০ বছর পর ইসলামাবাদে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, প্রদর্শিত হলো চিত্রকর্ম
দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচি।
নাচ-গান ও চিত্রকলায় তুলে ধরা হলো বাংলাদেশের শিল্প-ঐতিহ্য, দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন উদ্যোগ

দীর্ঘ ৩০ বছর পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে আয়োজন করা হয়েছে এক জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও চিত্রপ্রদর্শনী। নাচ, গান ও চিত্রকলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিল্প-ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পাকিস্তান ন্যাশনাল কাউন্সিল অব দ্য আর্টসের (পিএনসিএ) উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। একই দিন পিএনসিএর আলোকচিত্র গ্যালারিতে বাংলাদেশের খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী মো. আবদুস সাত্তারের একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়।

দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচি।

অনুষ্ঠানে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান, বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মো. মিজানুর রহমান, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন।

প্রাচ্যধারার চিত্রকলা নিয়ে আলোচনা

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আগে পিএনসিএর একাডেমি লেকচার হলে তরুণ শিল্পী ও শিল্পবোদ্ধাদের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্য দেন চিত্রশিল্পী আবদুস সাত্তার। এ সময় তিনি প্রাচ্যধারার চিত্রকলা নিয়ে আলোচনা করেন।

পরে পিএনসিএর মিলনায়তনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বাংলাদেশ থেকে আসা শিল্পীরা প্রায় দুই ঘণ্টার আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক নৃত্য এবং সংগীত পরিবেশন করেন। পরিবেশনায় ছিল বাংলার লোকজ সংগীতের অন্যতম ধারা লালনগীতি এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান নজরুলসংগীত।

একক সংগীত পরিবেশন করেন পিয়াল হাসান, মো. ইশা খান ইথুন বাবু, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন নাসির ও নাজনীন আক্তার (মৌসুমী চৌধুরী)। দলীয় নৃত্যে অংশ নেন মেহবুবা মাহনুর চাঁদনি, ফারহানা চৌধুরী, আব্দুর রশিদ স্বপন ও গোলাম মোস্তফা।

বাদ্যযন্ত্রে তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করেন রাজু আহমেদ চৌধুরী (তবলা), রাহাত আহমেদ হাসান (সিনথেসাইজার), ইকবাল হোসাইন খন্দকার (গিটার) ও সৌরভ সাহা (অক্টাপ্যাড)।

বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিবেশনা উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শক-শ্রোতারা। তাঁদের করতালিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে মিলনায়তন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পীদের নাচ, গান ও চিত্রকর্ম দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে।

সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ

ইসলামাবাদে বাংলাদেশের এ আয়োজনকে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংগীত, নৃত্য ও চিত্রকলার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ শিল্প-ঐতিহ্য পাকিস্তানের দর্শকদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর এমন আয়োজন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। শিল্প ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।