Favicon

দুর্গম এলাকায় স্টারলিংকের চাহিদা বেড়েছে

প্রতিবেদক: মাজহারুল ইসলাম মিচেল এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ বিভাগ: এক্সক্লুসিভ
দুর্গম এলাকায় স্টারলিংকের চাহিদা বেড়েছে
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বান্দরবানের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এক ব্যক্তিকে স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দেখা যায়। যেখানে ক্যাবল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো অসম্ভব, সেখানে এই স্যাটেলাইট প্রযুক্তিই এখন স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা। ছবি: এসটি
প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে

ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক বাংলাদেশে শহরের তুলনায় গ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চলে বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (বিটিআরসি) সূত্র অনুযায়ি উদ্বোধনের পর থেকে প্রায় এক বছরে চার হাজার ইউনিটের কাছাকাছি বিক্রি হয়েছে। দেশের যেসব জায়গায় ব্রডব্যান্ডের সংযোগ নেই বা তুলনামূলক কম শক্তিশালি সেসব জায়গাতেই স্টারলিংকের পদচারণা বেশি দেখা যাচ্ছে।

তারা জানান, বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি কোম্পানি স্টারলিংকের সঙ্গে ব্যবসা করছে। এর মধ্যে রিসেলার হিসেবে সরকারি স্যাটালাইট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি, ফ্যালিসিটি আইডিসি, মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি আজিয়াটা ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস ব্যবসা করছে। আর কারিগরি সহায়তা দেয়ার পথে রয়েছে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ফাইবার৥হোম।

অপরদিকে, অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে গ্লোবাল ব্র্যান্ডকে বাংলাদেশে স্টারলিংকের অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা মূলত বড় পরিসরে হার্ডওয়্যার সরবরাহ এবং সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে।

অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতা হিসেবে রয়েছে রায়ান্স কম্পিউটারস, স্টার টেক, বি-ট্র্যাক সলিউশনস লিমিটেড এবং গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার। এরা সরাসরি গ্রাহকদের কাছে স্টারলিংক কিট বিক্রি করছে।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের মহাব্যাবস্থাপক শাহ্ আহমেদুল কবির জানান, সবাই ব্রডব্যান্ডের সংযোগকেই বেশি পছন্দ করে। আর তাই আমরা যেখানেই ব্রডব্যান্ডের উপস্থিতি কম সেখানেই ফোকাস করছি। আমরা এ মুহুর্তে পার্বত্য অঞ্চল, দুর্গম চরাঞ্চল, মাছ ধরার নৌকা, সামুদ্রিক নৌযান এবং দূরপাল্লার বাস ও ট্রেনের দিকে বেশি নজর দিচ্ছি।

গ্লোবাল ব্র্যান্ডের ব্রান্ড ও কমিউনিকেশন বিভাগ জানায়, তাদের যতগুলো কিট বিক্রি হয়েছে তার মধ্যে বেশির ভাগই পার্বত্য অঞ্চল ও দুর্গম চরাঞ্চলই বেশি রয়েছে।

তারা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ২শ’ ২০টি কিট বিক্রি হয়েছে। তার সবগুলোই চট্রগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি জেলায় প্রায় ৪০০টি স্টারলিংক টার্মিনাল বিক্রি করে ১২টি বিদ্যালয়ে সংযোগ দিয়েছে এবং ১৫০টিরও বেশি বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্টারলিংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তাদের যেসব টার্গেট ভোক্তাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে পার্বত্য অঞ্চল, দুর্গম চরাঞ্চল, মাছ ধরার নৌকা, সামুদ্রিক নৌযান এবং যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন তাদের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, যেখানে ব্রডব্যান্ডের সংযোগ রাখা সম্ভব নয় বা কম শক্তিশালি। সে হিসেবে স্টারলিংকের বিক্রয় কৌশল সফল।

কিন্তু এরপরও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন স্টারলিংক তেমন এগিয়ে যেতে পারবে না।

ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার অব বাংলাদেশের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক জানান, বাংলাদেশে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্রাহক তারা পাবেন। যেখানে আমরা কম শক্তিশালি বা যেতে পারি নি সেখানে তাদের গ্রাহক পেতে পারেন। কিন্তু আমাদের থেকে বেশি গ্রাহক পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করি। কারণ আমরা খুবই অল্প টাকায় ওদের থেকে বহুগুণে বেশি সার্ভিস দিচ্ছি।

মাজেদা নেটওয়ার্কের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা উজ্জল দাস জানান, একটা ব্রডব্যান্ড কোম্পনি যে পরিমাণ সার্ভিস দিতে পারবে সে পরিমাণ সার্ভিস স্টারলিংকের দেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, তাদের ইন্টারনেট আসবে ওয়ারলেস হয়ে আর আমাদের ইন্টারনেট যাবে সরাসরি তারের মাধ্যমে। আমাদের সেবার মান অনেক বেশি।তাদের খরচ অনেক বেশি।

সূত্র জানায়, স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে মূলত দুটি খরচ বিবেচনা করতে হয়একটি হলো এককালীন ডিভাইস কেনার খরচ এবং অন্যটি মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি। বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড কিটের দাম প্রায় ৪৭ হাজার টাকার কাছাকাছি। আর মিনি কিট ২৫ হাজার টাকা। যদিও মডেলভেদে এই দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। এই কিটের মধ্যেই ডিশ অ্যান্টেনা, রাউটার এবং প্রয়োজনীয় এক্সেসরিজ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

অন্যদিকে, মাসিক ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীদের সাধারণত ৪,২০০ টাকা থেকে ৬,০০০ টাকার মধ্যে খরচ করতে হয়।

উচ্চ খরচের কারণে স্টারলিংকের ব্যাপক প্রসার নিয়ে স্থানীয় ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা এখনও সন্দিহান।