Favicon

জলবায়ু সংকটে বাড়ছে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি, মেয়েদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ বিভাগ: মেট্রোপলিটন
জলবায়ু সংকটে বাড়ছে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি, মেয়েদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
ছবি : সংগৃহীত
জলবায়ু সংকটে বাড়ছে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি, মেয়েদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগে পরিবারের আয় কমে যাওয়া, শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়া ও সামাজিক চাপ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের মেয়েদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরায় ইসমাইলি জামাতখানা অ্যান্ড সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন (আইএইচএফ) ও ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে দুটি প্যানেল আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, লিঙ্গবৈষম্য ও বাল্যবিবাহের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, জলবায়ুজনিত সংকট মোকাবিলায় শুধু জরুরি ত্রাণ সহায়তা যথেষ্ট নয়। দুর্যোগের পর পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করাও জরুরি, যাতে মেয়েদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বাল্যবিবাহকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুর্যোগ পরিবারের আয় কমিয়ে দিতে পারে। এতে মেয়েদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হয় এবং ঘরের কাজে তাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো আর্থিক ও সামাজিক চাপে পড়ে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আদনান হোসেন বলেন, “একটি ঝড় একটি পরিবারের জীবন এলোমেলো করে দিতে পারে। স্কুলঘর ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু কোনো দুর্যোগই যেন একটি মেয়ের স্বপ্নপূরণ বা নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।”

প্রথম প্যানেল আলোচনায় সঞ্চালনা করেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শামীমা আক্তার। এতে অংশ নেন সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের (সি৩ইআর) উপপরিচালক রৌফা খানুম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অনিতা গাজী রহমান, সিটিব্যাংক এনএ বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স রুমানা আহমেদ এবং জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন বিশেষজ্ঞ আফসানা চৌধুরী।

দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনায় সঞ্চালনা করেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ ফজলে নিয়াজ। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ফওজিয়া করিম ফিরোজ, বুরো বাংলাদেশের হেড অব রিসার্চ ও জেন্ডার অ্যান্ড ক্লাইমেট লিড মাইমুনা জাহরা ফারিহ, আমাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইসরাত করিম ইভ এবং গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস কাউন্সিলের কান্ট্রি লিড ফারাহ আনজুম।

দুই প্যানেলের আলোচনায় দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন, মেয়েদের সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পরিবারের আয়ের বিকল্প উৎস তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উদ্যোগ ও নিজেদের জীবনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

অনুষ্ঠানে ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশের লিড মুনিরা আহমেদ ফিদাই বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেয়েদের শুধু ভুক্তভোগী হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদের নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সহনশীল সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ দিতে হবে।

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও জরুরি সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য মোকাবিলায় কাজ করছে। অন্যদিকে, শিয়া ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ইসমাইলি সিভিক সমাজসেবা ও পরিবেশের টেকসই উন্নয়নে কাজ করে।

অনুষ্ঠানটির জনসংযোগ সহযোগী ছিল ব্যাকপেজ পিআর এবং ডিজিটাল মিডিয়া পার্টনার ছিল দ্য নিউজ কমপ্রেস।