সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তির আওতায় লোক ভির্জা জাদুঘরে সংগীত সন্ধ্যা
ঢাকা: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নাচে-গানে দর্শক মাতালেন বাংলাদেশি শিল্পীরা। দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তির আওতায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সংগীত সন্ধ্যা’য় বাংলাদেশের সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা উপভোগ করেন পাকিস্তানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দর্শকদের করতালি ও শিল্পীদের পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে লোক ভির্জা জাদুঘরের মুক্ত মঞ্চ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লোক ভির্জা জাদুঘরের মুক্ত মঞ্চে দ্বিতীয় দিনের মতো এ সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল।
পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান, পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজন, গণমাধ্যমকর্মী, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য এবং স্থানীয় দর্শক-শ্রোতারাও এতে অংশ নেন।
বাংলাদেশি শিল্পীদের নাচ ও গানের পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। গ্যালারিভর্তি দর্শক-শ্রোতা মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে শিল্পীদের উৎসাহিত করেন। তাঁদের উচ্ছ্বাস বাংলাদেশের সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি পাকিস্তানের দর্শকদের আগ্রহ ও ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটায়।
এর আগে সকালে বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক দল লোক ভির্জা জাদুঘর পরিদর্শন করে। এ সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান এবং জাদুঘরের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ ওয়াকাস সলিম (Muhammad Waqas Saleem) উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে পাকিস্তানের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন বাংলাদেশের শিল্পীরা। জাদুঘরে সংরক্ষিত পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখে তাঁরা মুগ্ধ হন।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাংস্কৃতিক বিনিময় দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামাবাদে বাংলাদেশি শিল্পীদের এ পরিবেশনা দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ জোরদারের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।